জীবিকার তাগিদে পুরো চৌধুরীহাট এলাকার হাজারো মানুষের ইন্টারনেটের সংযোগ সচল রাখাই ছিল যাঁর কাজ, সেই তরুণ নিজের জীবনের সংযোগটাই যে এভাবে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন করে দেবেন-তা মানতে পারছেন না কেউই।
চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নে ১৮ বছর বয়সী এক যুবকের রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও স্তব্ধতা।
শনিবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মেখল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হিম্মত সিকদার বাড়ি থেকে ইসমাইল সিকদার নামের ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।
নিহত ইসমাইল ওই এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী আইয়ুব সিকদারের সন্তান। পেশায় তিনি চৌধুরীহাট এলাকার একটি স্থানীয় ইন্টারনেট (ওয়াইফাই) সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ইসমাইলের নিজ বাড়িতে কেউ ছিলেন না। সেই সুযোগেই তিনি নিজের ঘরের ভেতরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা ফিরে এসে দৃশ্য দেখে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে দ্রুত হাটহাজারী মডেল থানার একটি পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা নিহতের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করে।
হঠাৎ এমন চরম সিদ্ধান্ত কেন নিলেন হাসিখুশি স্বভাবের তরুণ ইসমাইল?
স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, ভালোবাসার সম্পর্কে টানাপোড়েন বা প্রেমে ব্যর্থতার মানসিক যন্ত্রণা থেকে তিনি এই কাজ করে থাকতে পারেন।
তবে ঘটনাটি নিছক প্রেমঘটিত নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গহীন কষ্ট বা চাপ-তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে।
এ বিষয়ে ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সবুজ জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এবং লাশ উদ্ধার করে মর্গে নিয়ে যায়। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত।
হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উত্তম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি।
এটি হত্যা না আত্মহত্যা-ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্টভাবে জানা যাবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
একদিকে বিদেশে থাকা পিতার হাড়ভাঙা খাটুনি, অন্যদিকে এক উদীয়মান যুবকের অকালে ঝরে যাওয়া-ইসমাইলের এমন বিদায়ে হিম্মত সিকদার বাড়ির চারপাশ জুড়ে এখন কেবলই শোক আর বিষাদের নীরবতা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

