চান্দগাঁওয়ে প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যার নেপথ্যে রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধ: গ্রেপ্তার ৮

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:১৩

অন্যায়ের প্রতিবাদ ও এক নিরীহ মানুষের ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দেওয়াই যেন কাল হলো ২০ বছরের তরুণ সাকিবের। সেই জেরে প্রকাশ্যে দিবালোকে প্রাণ দিতে হলো তাকে।

তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীরা পার পায়নি। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তিন এজাহারনামীয় আসামিসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাইনিজ কুড়াল ও সুইচগিয়ার ছুরি।

রোববার র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ চাঞ্চল্যকর তথ্যাদি নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন-মো. ইমন (২২), মো. রায়হান (২৫), শাহেদ সালমান (২২), মোহাম্মদ হোসেন (২২), হাসান মোহাম্মদ রবিউল (২১), মো. সাকিব হোসেন (১৮), মো. আছমান (২৩) এবং মো. ফয়সাল (২৩)।

নিহত মোহাম্মদ সাকিব ছিলেন চান্দগাঁও বিসিক এলাকার একটি ময়দার মিলের চাকুরিজীবী। তিনি চররাঙ্গামাটিয়া এলাকার মো. নজুম উদ্দিনের ছেলে।

যে ঘটনার জেরে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড
র‍্যাব সূত্রের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ প্রতিশোধের গল্প। ঘটনার আনুমানিক ৮ থেকে ১০ দিন আগে আসামি ইমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে জোরপূর্বক মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যান। চোখের সামনে এমন অন্যায় দেখে নীরব থাকেননি সাকিব।

স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তিনি ইমনের হাত থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে মূল মালিককে ফিরিয়ে দেন। এই ঘটনায় সাকিবের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয় ইমন ও তার সঙ্গীরা। জন্ম নেয় এক তীব্র আক্রোশ।

সেই প্রতিশোধের আগুন থেকেই ২০ আগস্ট রচিত হয় এক নৃশংস অধ্যায়। সাকিব তার প্রতিবেশী জিসানকে নিয়ে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন।

পথিমধ্যে চান্দগাঁও থানাধীন মোহরা কামাল বাজার এলাকার লায়লা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা আসামিরা তাদের রিকশার গতি রোধ করে।

মুহূর্তের মধ্যে ইমন সাকিবের শার্টের কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় ধারালো ছুরির এলোপাতাড়ি কোপ। ইমনের সঙ্গে থাকা অন্যান্য সঙ্গীরাও সাকবিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত চম্পট দেয়।

রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

নৃশংস এই ঘটনার পর নিহতের পিতা বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা পরবর্তী তদন্তের জের ধরে র‍্যাব-৭ অভিযান চালিয়ে জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি উদ্ধার করা আলামত সম্পর্কিত বিষয়ে চান্দগাঁও থানায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি