প্রতিদিনের মতো রোববার সকালেও ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন জীবনের তাগিদে। গন্তব্য ছিল কর্মস্থল-গার্মেন্টস কারখানা।
কিন্তু কে জানত, সকাল সাড়ে আটটার সেই যাত্রাটাই হবে তার জীবনের শেষ পথচলা! ঘাতক বাসের এক নিমেষের আঘাতে সব স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার লড়াই থেমে গেল ৫৯ বছর বয়সী অরুন দাশের।
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বালুছড়া এলাকার ভিজুয়াল গার্মেন্টসের ঠিক সামনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালুছড়া জালালাবাদ এলাকার বাসিন্দা সতীশ দাশ ও নিয়তি বালা দাশের সন্তান অরুন দাশ সকালে হেটে গার্মেন্টসে যাচ্ছিলেন।
ভিজুয়াল গার্মেন্টসের কাছাকাছি পৌঁছাতেই ৩ নম্বর রুটের একটি বাস তাকে সরাসরি সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কায় পিচঢালা রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি, রক্তে ভেসে যায় চারপাশ।
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় আশপাশের লোকজন ও পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
চমেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর পর পরীক্ষার নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এক লহমায় একটি পরিবার হারিয়ে ফেলে তাদের প্রিয় মানুষকে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক জানান, সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় অরুন দাশকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ বর্তমানে চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
অরুন দাশের এই অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্থানীয় জালালাবাদ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের মাতম।
সড়ক নিরাপত্তার অভাব আর বেপরোয়া বাসের চালনা কেড়ে নিল আরও একটি মেহনতী প্রাণ, যে প্রশ্ন রেখে গেল আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

