চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে এসে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন হাসান রাজু (২৪) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে রেশমি আক্তার (১২) নামে এক শিশু।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রৌফাবাদ এলাকার বাঁশবাড়িয়া বিহারির কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাসান রাজুর বাড়ি রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকায়। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। আহত রেশমি আক্তারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কলোনির সরু গলির সামনে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ পড়ে আছে। চারদিকে উৎসুক মানুষের ভিড়।
পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহ করে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে পাঁচ থেকে ছয়জন যুবক মুখে মাস্ক পরে এলাকায় প্রবেশ করে। তারা সরাসরি হাসান রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলেই রাজুর মৃত্যু হয়। এ সময় পাশে থাকা রেশমি আক্তার গুলিবিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহত রাজুর বোন রুমা আক্তার বলেন, কয়েক দিন আগে তাঁর ভাই বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন এবং কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটির পেছনে পূর্ববিরোধের সূত্র থাকতে পারে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
নাসির উদ্দিন ছিলেন প্রবাসফেরত ও যুবদলের কর্মী। ওই ঘটনায় নিহত নাসিরের মেয়ে লাভলী আক্তার হাসান রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন।
এই ঘটনার পর থেকেই রাজু এলাকায় চাপে ছিলেন কি না, কিংবা সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডটি প্রতিশোধমূলক কি না—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় রৌফাবাদ ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



