চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের সামনে সকাল পৌনে নয়টা থেকেই নিথর নীরবতা, আর রোগীদের চোখে-মুখে চরম দুশ্চিন্তা।
কেউ এসেছিলেন জরুরি এক্স-রে করাতে, কারও প্রয়োজন ছিল জরুরি আলট্রাসনোগ্রাফি। কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় চিকিৎসা সরঞ্জামের চাকা।
বিদ্যুৎ ছাড়া আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনের জন্য প্রয়োজনীয় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) চালু রাখা সম্ভব হচ্ছিল না।
অন্যদিকে চমেকের নিজস্ব জেনারেটর চালু থাকলেও, তা দিয়ে এক্স-রে বা আলট্রাসনোগ্রাফির মতো ভারী ও স্পর্শকাতর মেশিন চালানো অসম্ভব বলে জানান চিকিৎসকেরা।
ফলে মুহূর্তের মধ্যেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কক্ষগুলোর বাইরে হাজারও রোগীর দীর্ঘ সারি ও তীব্র ভিড় তৈরি হয়। বন্ধ হয়ে পড়ে টিকিট কাউন্টারের স্বাভাবিক কার্যক্রমও।
কিন্তু কেন ঘটল এই আকস্মিক ভোগান্তি? পিডিবি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড)-এর তথ্যমতে, স্টেডিয়াম এলাকার একটি ফিডারের আওতায় কেব্লিং ও জরুরি মেরামতকাজের জন্য আগে থেকেই বিদ্যুৎ বন্ধের পূর্বঘোষণা ছিল।
সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কথা ছিল এই জোনে, যার আওতাভুক্ত চমেক হাসপাতালও।
হাসপাতালের এই জটিল পরিস্থিতির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষপ নেন চমেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন।
তিনি সরাসরি ফোন করেন বিদ্যুৎ বিভাগে। রোগীদের অসহনীয় দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (স্টেডিয়াম) নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম জরুরি ভিত্তিতে চমেক হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন।
অবশেষে বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিদ্যুৎ ফিরে এলে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা পর স্বস্তি ফেরে চমেক হাসপাতালে। শুরু হয় স্থগিত থাকা এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফিসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
চমেকের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের প্রধান কাজী মো. আলম জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা এসব সংবেদনশীল যন্ত্র চালনার জন্য আবশ্যিক। ফলে সাময়িকভাবে পরীক্ষাগুলো বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় ছিল না।
বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
চমেক পরিচালক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেন রোগীদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগকে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

