প্রতিদিনের মতোই ভোরের স্নিগ্ধতায় সৃষ্টিকর্তার দরবারে মাথা নত করেছিলেন। ফজরের নামাজ আদায় করে শরীরটাকে একটু ঝরঝরে করতে বেরিয়েছিলেন প্রভাতী হাঁটায়।
কিন্তু কে জানত, এই শুভ্র ভোরই তাঁর জীবনের শেষ ভোর হয়ে দাঁড়াবে। প্রিয়জনদের মায়া কাটিয়ে, আর কখনো ঘরে ফেরা হলো না তাঁর।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরের আলো ফোটার মুখেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই অংশের বড় দারোগারহাট বাজারের উত্তর পাশে ঘটে যায় এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি।
চট্টগ্রামমুখী লেনে অজ্ঞাত এক দ্রুতগামী গাড়ির নির্মম ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের কমলদহ গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক (৬৬)।
স্থানীয়দের আকস্মিক চিৎকারে মুহূর্তের মধ্যে ভারী হয়ে ওঠে ভোরের বাতাস। রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা এই সাবেক জনপ্রতিনিধিকে উদ্ধার করে দ্রুত সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টার আগেই না-ফেরার দেশে চলে যান তিনি। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে কুমিরা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল আবছার জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘাতক গাড়িটি দুর্ঘটনার পরপরই পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সেটিকে শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
একজন সদালাপী ও সাবেক ইউপি সদস্যের এমন মর্মান্তিক আকস্মিক প্রয়াণে পুরো কমলদহ গ্রামসহ ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে এখন নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
একজন মানুষের নিয়মিত ভোরের সুস্থতা চর্চা যে এভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি এনে দাঁড় করাবে, তা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়া।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

