লোহাগাড়া প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার দরবেশহাট-ডিসি সড়ক ধরে এখন আর কোনো যান চলে না, চলে মানুষের জীবন নিয়ে এক রুদ্ধশ্বাস জুয়া।
দরবেশহাট থেকে হাসনা ভিটা-পুরো পথজুড়ে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে দানবাকৃতির খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্ত পরিণত হচ্ছে মিনি জলাশয়ে।
স্থানীয় পুটিবিলা হাজির রাস্তার মোড়ে সুবিশাল গর্তের হাঁটু পানিতে ধানের চারা রোপণ করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বার্তা দিয়েছেন-এটি আর হেঁটে চলার পথ নেই, পুরোদমে ধান চাষের যোগ্য জমিতে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন
গাড়িতেই প্রসব, ভেঙে যাচ্ছে যাত্রী-চালকের কোমর
প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়া এখন এক বিভীষিকার নাম। সড়কটির ভঙ্গুর দশায় অ্যাম্বুলেন্স বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলা তো দূরের কথা, ঝাঁকুনিতে চলন্ত গাড়িতেই প্রসব হয়ে যাচ্ছে গর্ভবতী নারী রোগীর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অসুস্থ কিংবা বয়স্ক মানুষকে এ পথে তোলা মানে নিশ্চিত ভোগান্তিতে ফেলা।
গাড়ি চালক জিয়াউর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, এই রাস্তায় একবার গাড়ি চালালে সিএনজির সমস্ত নট-বল্টু আলগা হয়ে যায়, দিনশেষে সোজা গ্যারেজে ছুটতে হয়।শুধু গাড়ির যন্ত্রাংশই নয়, যাত্রী ও চালকদের কোমর ভেঙে শেষ।
যাতায়াতের করুণ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে বহু যাত্রী আগেই নেমে মাইল কে মাইল কাদা ভেঙে হেঁটে পথ পাড়ি দিচ্ছেন।
স্বপ্নের পোশাকে কাদার দাগ, বন্দি শিক্ষার্থীরা
প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী এই পথ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়। কিন্তু বিশাল বিশাল খানাখন্দে জমে থাকা নোংরা জলরাশি দ্রুতগতির ওজনের গাড়ির চাকায় ছিটকে এসে মুহূর্তেই নষ্ট করে দিচ্ছে কোমলমতি শিশুদের পরিচ্ছন্ন পোশাক।
অনেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, স্কুলে যাওয়ার আগেই পোশাক নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনা স্থগিত রেখে বাড়িতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
পাহাড়ি কাঠ ও বালুর দাপটে ধ্বংস অবকাঠামো
সড়কটির এই কঙ্কালসার চেহারার মূলে রয়েছে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বোঝাই ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচল। প্রতিদিন কাঠ, বাঁশ এবং বালুভর্তি শত শত ট্রাক কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এ পথ ব্যবহার করছে।
বছরের পর বছর কোনো টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ না থাকা এবং ওভারলোডেড যানবাহনের ভারে সড়কটির ভিত্তি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ সওদাগরের মতে, বছরের পর বছর ধরে আমরা একই তামাশা দেখছি। ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠেছে, মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হলেও প্রশাসন ছিল চোখ বন্ধ করে।
প্রশাসনের টনক নড়বে কি?
অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে পুটিবিলা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল স্বীকার করেছেন, সড়কটিতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে এবং তিনি উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন।
অন্যদিকে লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ পরিস্থিতি মারাত্মক নাজুক বলে স্বীকার করে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে দ্রুততম সময়ে সংস্কার কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে আশ্বাসের বাণী শুনতে শুনতে ক্লান্ত স্থানীয়দের প্রশ্ন-প্রশাসনের এই আশ্বাস কি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এবার সতাসত্য কার্যকর কোনো তদন্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের এই দুর্বিসহ যাতায়াতের অবসান ঘটানো হবে?
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি/রায়হান

