শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটটি চাকা স্পর্শ করতেই বাড়তে থাকে ভেতরে থাকা তিন যাত্রীর হৃদকম্পন।
দুবাই থেকে আসা এই ফ্লাইটে যে কোনো সাধারণ পণ্য ছিল না, তা আগে থেকেই জানা ছিল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কর্মকর্তাদের কাছে।
গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ওপর ভর করে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে ফ্লাইটটি অবতরণের পরপরই গোয়েন্দাদের নজরদারি শুরু হয়। এর পরিণতি-কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির এক রোমাঞ্চকর চেষ্টা নস্যাৎ।
অভিযানের পর একে একে বের হয়ে আসতে থাকে অভিনব কায়দায় আনা কোটি কোটি টাকার অবৈধ মালামাল।
তিন যাত্রী এবং বিমানবন্দরের পরিত্যক্ত একটি ব্যাগেজ বেল্ট থেকে উদ্ধার করা হয় ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট এবং ১৩টি লেটেস্ট মডেলের আইফোন। এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, শুল্ক-করসহ আটককৃত এই চালানের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা।
নজরদারির একপর্যায়ে তিন যাত্রীর ব্যাগেজ স্ক্যান করতেই ধরা পড়ে অবৈধ সামগ্রী। গোয়েন্দাদের চোখ এড়াতে পারেনি সাধারণ মালামালের আড়ালে লুকিয়ে রাখা দামী ফোন ও সিগারেটের কার্টন।
এমডি মঈনুল আবদিনের কাছ থেকে পাওয়া যায় প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৪৯ কার্টন ও মন্ড ব্র্যান্ডের ১৫ কার্টনসহ মোট ২৬৪ কার্টন সিগারেট এবং ৪টি আইফোন। আবদুল মান্নান নামে অপর এই যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে মেলে প্লাটিনামের ২৩৩ কার্টন ও মন্ডের ১৩ কার্টনসহ মোট ২৪৬ কার্টন সিগারেট এবং ৪টি আইফোন। তাছাড়া নুরুল আলম রিয়াদের কাছ থেকে জব্দ হয় প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৬৫ কার্টন ও ইজি ব্র্যান্ডের ৭ কার্টনসহ মোট ২৭২ কার্টন সিগারেট এবং ৫টি আইফোন।
আসল চমক ২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে
তিন যাত্রীর তল্লাশি শেষ ভেবে যখন সবাই শিথিল হতে যাবেন, ঠিক তখনই আসে দিনের সবচেয়ে বড় চমক। বিমানবন্দরের ২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে পড়ে থাকা একটি লাওয়ারিশ বা মালিকানাবিহীন ব্যাগে নজর পড়ে গোয়েন্দাদের।
সেই ব্যাগ খুলতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়-একটি ব্যাগ থেকেই বের হয়ে আসে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ২০ কার্টন বিদেশি সিগারেট!
সিআইআইডির দেয়া তথ্যানুযায়ী, জব্দ করা ১,৮০২ কার্টন সিগারেটের বাজারমূল্য আনুমানিক ৭৪ লাখ ৮ হাজার টাকা, যার ওপর প্রযোজ্য ৬২১ শতাংশ শুল্ক-কর প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৬৮০ টাকা। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া ১৩টি আইফোনের আনুষঙ্গিক মূল্য ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা হলেও ৫৮ শতাংশ শুল্ক-কর দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার ৭১০ টাকা।
একই আকাশযাত্রায় একাধিক যাত্রীর কাছে প্রায় অভিন্ন জিনিসপত্রের প্রাপ্তি এবং ব্যাগেজ বেল্টে বিশাল পরিমাণ মালিকানাবিহীন মালামাল পাওয়ার ঘটনাটি স্রেফ কাকতালীয় নাকি সুসংগঠিত কোনো অপরাধ চক্রের কাজ-তা খতিয়ে দেখছে সিআইআইডি।
বিষয়টি চরম গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

