চট্টগ্রামে রহস্যময় অস্ত্রের গুলিতে ঝরল সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার প্রাণ!

অস্ত্রের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৫৪

চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন হাজীপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে নিজ মাথায় পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন শাহিদ হোসেন (৪৫) নামে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহিদ হোসেন হাজীপাড়ার ইমাম হোসেনের বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত ইকবাল হোসেন এবং মায়ের নাম মমতাজ বেগম।

শাহিদ হোসেন আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালে সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির নির্বাহী কর্মকর্তা পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি একজন আইনজীবীও ছিলেন। সম্প্রতি বেকার জীবনযাপন করছিলেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় শাহিদকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠান। সেখানে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর পর মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে নিহতের স্ত্রী শারমিন জানান, সকালে হঠাৎ বাসায় বিকট শব্দ হয়। ড্রয়িংরুমে গিয়ে তিনি শাহিদকে মাথায় গুলবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

শারমিন বলেন, মাঝেমধ্যে ওর সঙ্গে মনোমালিন্য হতো। গতকাল তার সঙ্গে সামান্য ঝগড়া হয়েছিল। এখন কোন কারণে সে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিয়েছে, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

আমি কোনো কিছু চিন্তা করতে পারছি না। আমাদের দুটি সন্তান রয়েছে এবং আমি নিজেও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই অবস্থায় ও আমাদের এভাবে ফেলে চলে যাবে, তা ভাবতেও পারছি না। এসব কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

তবে কী কারণে তিনি এ চরম পথ বেছে নিলেন, সে বিষয়ে স্ত্রী কিছুই জানাতে পারেননি। সবচেয়ে বড় প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি।

স্ত্রীর দাবি-এই পিস্তলটি শাহিদ কোথা থেকে কীভাবে সংগ্রহ করেছিলেন, সে সম্পর্কে পরিবারের কারও কোনো ধারণা নেই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরেই তিনি নিজ মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। এ ছাড়া ব্যবহৃত পিস্তলটি বৈধ নাকি অবৈধ, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামতসহ অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছেন।

একজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা হয়েও তিনি কীভাবে এমন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পেলেন এবং আত্মহত্যার পেছনে কেবলই পারিবারিক টানাপোড়েন নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে-তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি