চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফা পাড়া এলাকায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হয় নূরুল আজিমকে। গত ১০ জুলাই মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও মামলার প্রধান আসামি মো. দিদারুল আলমকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দীর্ঘ প্রায় তিন সপ্তাহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আত্মগোপনে থেকে আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার।
রবিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ ঝটিকা অভিযানে দিদারুল আলমকে গ্রেফতার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি দিদার একের পর এক স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপন করে আসছিল।
তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং নিখুঁত নজরদারির মাধ্যমে পুলিশ তার অবস্থান চিহ্নিত করে।
চট্টগ্রাম থেকে পুলিশের বিশেষ দল কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আজ সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজীজ বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর প্রধান আসামি অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিল।
প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হই। আজ সোমবার আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের দিনেই হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ার ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মামলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে মূল আসামি দিদারুল আলম পলাতক থাকায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র শঙ্কা বিরাজ করছিল।
প্রধান আসামি গ্রেফতার হওয়ায় মেখল এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের এখন একটাই দাবি-অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

