ভুয়া কিউআর কোড স্ক্যান করতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠত ‘সরকারি অনুমোদন’। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ভুল সিল ও স্বাক্ষর দেখে কারও বোঝার উপায় ছিল না যে, হাতে থাকা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদটি আসলে জাল।
কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি এই নিখুঁত প্রতারণার ফাঁদ শেষ পর্যন্ত টিকল না। ট্রাভেল এজেন্সির সতর্কতায় উন্মোচিত হলো এক অভিনব জালিয়াত চক্রের একঘেয়েমি।
বিদেশগামী এক তরুণকে প্রতারিত করার অভিযোগে বাঁশখালী ও চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে চক্রের চার মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
প্রতারণার পাতানো ফাঁদ বিদেশ যাওয়ার তাড়া ছিল ভুক্তভোগী এক তরুণের। দ্রুত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হাতে পাওয়ার এই তাড়াহুড়োকে পুঁজি করে আসরে নামে জালিয়াত চক্রটি।
মাত্র কয়েক দিনে সনদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চুক্তি করা হয় আড়াই লাখ টাকার। অগ্রিম হিসেবে চক্রটি হাতিয়ে নেয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এরপর শুরু হয় প্রযুক্তিনির্ভর চালাকি। সরকারি কর্মকর্তাদের নাম, স্বাক্ষর ও সিল জাল করে একটি সনদ তৈরি করে তারা। তবে সনদটি আসল বলে চালিয়ে দিতে তারা ব্যবহার করে এক অভিনব কৌশল।
সরকারি পোর্টালের আদলে তৈরি করা হয় একটি নকল ওয়েবসাইট এবং সনদে যুক্ত করা হয় একটি ভুয়া কিউআর কোড।
খালি চোখে দেখলে মনে হবে এটিই আসল সনদ, কারণ কিউআর কোডটি স্ক্যান করলে সরাসরি তাদের তৈরি নকল ওয়েবসাইটে নিয়ে যেত এবং সেখানে দেখাত ‘সরকারি অনুমোদন’।
যেভাবে ধরা পড়ল জালিয়াতি নিজের হাতে পাওয়া সনদটি আসল মনে করে ভুক্তভোগী তরুণ জমা দেন ট্রাভেল এজেন্সিতে।
তবে এজেন্সির নিজস্ব যাচাই-বাছাই ও সতর্ক নজরদারির মুখে উন্মোচিত হয় জালিয়াতির আসল রূপ।
প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী তরুণ দেরি না করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান।
অভিযোগের ভিত্তিতে মাঠে নামেন চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা।
ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে দ্রুততম সময়ে চক্রের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম নগর ও বাঁশখালী উপজেলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চারজনকে।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন-মো. আশরাফ আলী খান (৩৬), মো. নিশান (৩৬), মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন (৪৮) ও মো. আবদুর রহমান (৪৬)। গ্রেপ্তারের পর আসামীদের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশের কঠোর বার্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি নথি, যা বিদেশে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বহন করে।
সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে বিদেশগামী নাগরিক ও সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে না পড়ে কেবল নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

