ফেসবুক ওয়ালে নিঃশব্দ বিদায়বার্তা,কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেলুনে মিলল ঝুলন্ত মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৯

রুস্তমহাটের যে সেলুনটি প্রতিদিন মুখরিত থাকত প্রাণচাঞ্চল্যে, শুক্রবার রাতে সেটিই রূপ নিল এক থমথমে মৃত্যুপুরীতে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমাকে সবাই ক্ষমা কইরেন’-এমন একটি হৃদয়বিদারক পোস্ট দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় উদ্ধার হলো তরুণ নাপিত নেপাল রবি দাশের (২৬) ঝুলন্ত লাশ।

ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের রুস্তমহাট এলাকায়।

মৃত নেপাল রবি দাশ পূর্ব বটতলী এলাকার গুচ্ছগ্রামের প্রয়াত সুনীল রবি দাশের ছেলে। ছয় ভাই-বোনের সংসার সামলাতে বড় ভাইয়ের হাত ধরে এই রুস্তমহাটেই সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করতেন তিনি।

পরিবারের সবার ছোট এবং সদালাপী হিসেবে পরিচিত এই তরুণের এমন আচমকা বিদায়ে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে নেপাল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিদায়সূচক ওই আবেগঘন পোস্টটি দেন। পরিচিতজনরা বিষয়টি দেখে আঁতকে ওঠেন।

কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেলুনের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায় তাকে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া সেই শেষ বার্তাটি কি শুধুই হতাশার বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল গভীর কোনো মানসিক যন্ত্রণা বা অদৃশ্য টানাপোড়েন-তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।

ঘটনার আকস্মিকতায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ঠিক কী কারণে এক উদীয়মান তরুণ এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফেসবুক পোস্টের ভেতরের ব্যথা বা ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি