একটি মাত্র উত্তরপত্র বা কয়েকটি নম্বর-কখনও তা গড়ে দেয় জীবনের নতুন আশা, আবার কখনও বাড়িয়ে দেয় দীর্ঘশ্বাস।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফলে ঠিক এই রকমই এক মিশ্র অনুভূতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
পুনঃযাচাইয়ের জটিল প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই ফলাফল।
যেখানে একদিকে যেমন ১৯০ জন শিক্ষার্থীর ফেলের গ্লানি মুছে এসেছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, তেমনই নম্বর বেড়েও ফেলের তালিকায় রয়ে যাওয়া ১৫০ জন শিক্ষার্থীর ভাগ্যে জুটেছে নতুন হতাশা।
পছন্দসই ফল না পেয়ে এবার রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার্থী নিজেদের খাতা পুনঃযাচাইয়ের আবেদন করেছিলেন। বোর্ড সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে চোখ রাখলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পরিধি স্পষ্ট হয়।
আবেদনকারী পরীক্ষার্থী: ৩৯,৭৯৮ জন, পুনর্নিরীক্ষণকৃত উত্তরপত্র: ১,১৪,৭০৬টি, নম্বর পরিবর্তিত উত্তরপত্র: ৩,১১৪টি, মোট নম্বর পরিবর্তিত পরীক্ষার্থী: ২,৯৭৫ জন।
সংগৃহীত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৩,১১৪টি উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তনের সুবাদে ১,১৮৫ জন পরীক্ষার্থীর জিপিএ (GPA) পুরোপুরি বদলে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এসেছে ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর ঝুলিতে, যারা নতুন করে সর্বোচ্চ সাফল্য ‘জিপিএ-৫’ অর্জন করেছেন। ১৯০ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে নতুন করে পাস করেছেন। জিপিএ-১ থেকে জিপিএ-৫ এর নিচে অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন ৬৪৭ জন পরীক্ষার্থী। ৩,১১৪টি খাতায় নম্বর বাড়লেও দুঃখজনকভাবে ১৫০ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের পর ফেলই থেকে গেছেন।
অনিয়ম ও ভুলের সুযোগ বন্ধে এই পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, সে বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল মান্নান স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন।
তিনি জানান, পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় আসা প্রতিটি উত্তরপত্র নির্ধারিত নিয়ম ও নীতিমালার নিখুঁত অনুসরণে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।
পুনঃযাচাইয়ের সময় যেসব খাতায় নম্বর গণনা বা যোগফলে অসঙ্গতি বা পরিবর্তনের সুযোগ পরিলক্ষিত হয়েছে, সেখানেই প্রচলিত নিয়ম মেনে সংশোধনী আনা হয়েছে। এরই প্রতিফলন হিসেবে বহু শিক্ষার্থীর সামগ্রিক নম্বর ও জিপিএ ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


