লক্ষ্মীপুরে পুকুরের জলে নাতি-নাতনি ও দাদার শোকাবহ বিদায়

দাদাকে বাঁচাতে গিয়ে নাতি-নাতনি-দুই অবুঝ শিশুরও সলিলসমাধি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৭

দুপুরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই চারপাশ ছেয়ে গেল এক আকুল হাহাকারে। যে পুকুরের জলে একটু শীতলতার খোঁজে নেমেছিলেন সত্তোরোর্ধ্ব বৃদ্ধ দাদা, সেই জলই হয়ে উঠল পরিবারের তিন সদস্যের শেষ ঠিকানা।

দাদাকে বাঁচাতে গিয়ে নাতি-নাতনি-দুই অবুঝ শিশুরও সলিলসমাধি ঘটেছে এক করুণ পরিণতিতে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাকচর এলাকার ইব্রাহিম পাটোয়ারী বাড়িতে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নিমিষেই আনন্দের ঘর পরিণত হয় বিষাদের সাগরে।

নিহতরা হলেন-ইব্রাহিম পাটোয়ারী বাড়ির আব্দুল মান্নান পাটোয়ারীর ছেলে আবু সিদ্দিক (৭০), তার ছেলে আব্দুল আজিজের ৮ বছর বয়সী সন্তান পিয়াস এবং মেয়ে সুমি আক্তারের ৬ বছর বয়সী সন্তান পপি আক্তার।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে দুই নাতি-নাতনি পিয়াস ও পপিকে সাথে নিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে নামেন আবু সিদ্দিক।

গোসলের একপর্যায়ে তিনি পানিতে ডুব দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তিনি আর পানির ওপর ভেসে ওঠেননি।

ধারণা করা হচ্ছে, পানির নিচে ডুব দেওয়ার পর তিনি হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা বা স্ট্রোকের শিকার হন, যার ফলে সাঁতরে ওঠার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

কূলে দাঁড়িয়ে থাকা অবুঝ দুই শিশু পিয়াস ও পপি তাদের প্রিয় দাদুকে উঠতে না দেখে অস্থির হয়ে পড়ে। কোনো কিছু চিন্তা করার বয়সোচিত পরিপক্কতা না থাকলেও, কেবল দাদাকে খোঁজা আর বাঁচানোর ব্যাকুলতায় তারা দুজনও একে একে গভীর পানিতে নেমে পড়ে। মুহূর্তেই শান্ত দীঘির পানি কেড়ে নেয় তিনটি নিরীহ প্রাণ।

ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর স্বজন ও স্থানীয়রা দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে একই পুকুর থেকে তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শাকচর গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান ফারুক আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, একই পরিবারের তিনজন এভাবে এক নিমেষে চলে যাবেন, তা কল্পনারও বাইরে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শোকাহত পরিবারের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি