রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া বইতেই রাজপথ থেকে লালফিতার দরবার-সর্বত্রই এখন সুবিধাবাদী আমলা ও প্রকৌশলীদের খোলস বদলানোর ধুম পড়েছে।
বিগত স্বৈরাচারী আমলে সীমাহীন অনুকম্পা, অঢেল আতিশয্য আর অবারিত বখশিস কুড়িয়ে যারা নিজেদের আখের গুছিয়েছিলেন, তারা রাতারাতি নিজেদের নতুন ‘রাজনীতি বান্ধব’ প্রমাণের বেপরোয়া কসরতে নেমেছেন।
এই সুবিধাবাদী বহুরূপীদের কাতারে একদম প্রথম সারিতে উঠে এসেছে গণপূর্তের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোঃ মহিবুল ইসলামের নাম।
ক্ষমতার সমীকরণ বদলে গেলেও তার অতীতের পঙ্কিল দুর্নীতি, চাতুর্যময় জালিয়াতি আর সরকারি কোষাগার থেকে শতকোটি টাকা পকেটস্থ করার দুর্ধর্ষ ইতিহাস কিন্তু মুছে যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গণপূর্তের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (E/M) শাখার এই চতুর কর্মকর্তা ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের শেষভাগ পর্যন্ত টানা দীর্ঘ আট বছর ঢাকার সবচেয়ে চর্বিযুক্ত ও লোভনীয় চেয়ারগুলো আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন।
ই/এম বিভাগ-৭ ও ১৩-এর সিঁড়ি ডিঙিয়ে বাংলাদেশ সচিবালয় সংলগ্ন অতি-গুরুত্বপূর্ণ ই/এম বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পদে আসন গেড়ে তিনি সরকারি কার্যালয়টিকে কার্যত নিজের ব্যক্তিগত ‘আয়ের মেশিনে’ পরিণত করেন।
সচিবালয়ের সুউচ্চ নিরাপত্তা প্রাচীর আর গেটপাশের জটিলতাকে ঢাল বানিয়ে সাধারণ ও সৎ ঠিকাদারদের প্রবেশাধিকার রুদ্ধ করে দিতেন তিনি।
এমনকি প্রতিযোগীদের পুরোপুরি আটকে দিতে সোমবারে দরপত্র (টেন্ডার) জমার তারিখ নির্ধারণের এক কুখ্যাত কৌশল ফেঁদেছিলেন, যাতে তাঁর নিজস্ব সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কারও ভাগ্যের শিকে না ছেঁড়ে।
সরকারি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (PPA) বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বনামে-বেনামে গড়ে তোলা ‘ইউনিভার্সেল এন্টারপ্রাইজ’-এর অন্তরালে প্রকৌশলী মহিবুল নিজেই বনে যান একচ্ছত্র ঠিকাদার।
স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় সব নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ৬.৫ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ হাতিয়ে নেওয়া কিংবা ঢাকা মেডিকেল কলেজের ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার কাজ কোনো দরপত্র ছাড়াই নিজের পকেটে পুরতে গিয়ে পরিচালকের কড়া ধমক খাওয়া-সবই ছিল তাঁর নিত্যদিনের অপকর্মের অংশ।
তবে তাঁর শোষণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি হতদরিদ্র চাকরিপ্রার্থীরাও। আউটসোর্সিংয়ের নামে জনবল সরবরাহের ছক কেটে তিনি প্রতিটি প্রার্থীর কাছ থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায় করে কোটি টাকার নিয়োগ-বাণিজ্য চালান।
‘উইডু’র মতো বৈধ ও সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কোণঠাসা করতে রাতারাতি টেন্ডারের শর্ত বদলে দেওয়া কিংবা গ্রাম থেকে আসা নিরীহ পরীক্ষার্থীদের ঢাকায় এনে উধাও করে দেওয়ার মতো ধূর্ত প্রশাসনিক হয়রানির জাল ছড়িয়েছিলেন এই কর্মকর্তা।
ধারাবাহিক জালিয়াতি ও গণমাধ্যমের তোপের মুখে ২০২৪-এর শেষলগ্নে তাঁকে চট্টগ্রাম ই/এম বিভাগ-২ এ বদলি করা হয়।
তবে বন্দরনগরীতে গিয়েও তাঁর মন টিকছে না. পুরনো রাজত্ব ও প্রভাব ফিরে পেতে তিনি এখন অতীতের সব আদর্শ ঝেড়ে ফেলে নতুন রাজনৈতিক হাওয়ায় গা ভাসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সূত্র-ডিডি
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মো. মহিবুল ইসলামের সরাসরি বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


