আমাদের সর্বস্ব শেষ, শুধু সন্তানকে বাঁচাতে চাই-এক অসহায় পিতা-মাতার হৃদয়বিদারক আর্তনাদ

ক্যান্সার জয়ের স্বপ্ন ১০ বছরের অতুনের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৫

যে বয়সে প্রতিদিন সকালে স্কুলের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে হেসে-খেলে চঞ্চল শৈশব উপভোগ করার কথা, সেই বয়সেই এক কঠিন আর নির্মম জীবন-সংগ্রামের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে ১০ বছরের খুদে শিশু অতুন চক্রবর্তী।

তার দুরন্ত শৈশব এখন বন্দি হয়ে পড়েছে হাসপাতালের ঠান্ডা চারদেয়ালে। শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণব্যাধি ‘ডিফিউজ লার্জ বি-সেল লিম্ফোমা’ (DLBCL, Non-Germinal Centre Type)।

মৃত্যুর চোখরাঙানি উপেক্ষা করে কেবল বেঁচে থাকার এক অদম্য আকুতি নিয়ে প্রতিদিন লড়াই করে যাচ্ছে ছোট অতুন।

বর্তমানে ভারতের মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ‘জাসলোক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ এ অতুনের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা আর মা-বাবার কোল খালি না হওয়ার শেষ আকুতি মিলে চলছে এই লড়াই।

অতুনের বাবা রঞ্জন চক্রবর্তী ও মা মনি চক্রবর্তী প্রিয় সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে ইতোমধ্যে তাদের জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ও সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ এখন আর এই মধ্যবিত্ত পরিবারটির পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসা রিপোর্ট থেকে জানা যায়, রোগটি ইতোমধ্যে অতুনের শরীরের একাধিক স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। রোগের শুরুতে তার পেটে ও ফুসফুসের চারপাশে অতিরিক্ত পানি জমে যায়। পরবর্তীতে বায়োপসি পরীক্ষায় কঠিন লিম্ফোমা শনাক্ত হলে দ্রুত কেমোথেরাপি শুরু করা হয়।

ইতোমধ্যে অতুনকে চার সাইকেল কেমোথেরাপি দেওয়া শেষ হয়েছে। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও সাম্প্রতিক FDG PET/CT স্ক্যানের রিপোর্ট বলছে, তার বুকের বিভিন্ন লিম্ফ নোড, ফুসফুসের আবরণ, পেটের অভ্যন্তরীণ অংশ এবং পেলভিসে এখনও মারণব্যাধির সক্রিয় উপস্থিতি রয়ে গেছে।

বিশেষ করে পেলভিস এলাকায় একটি বড় ‘সফট-টিস্যু মাস’ স্পষ্ট ধরা পড়েছে। ফলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতুনকে বাঁচাতে হলে আরও নিবিড় কেমোথেরাপি ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।

সন্তানকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারটি ইতোমধ্যেই দেশ ও বিদেশে চিকিৎসাবাবদ প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় করে ফেলেছে। ভারতে নেওয়ার আগে চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালেও তার চিকিৎসা চলে।

মুম্বাইয়ের চিকিৎসকদের বর্তমান পরামর্শ অনুযায়ী, অতুনকে অতি দ্রুত আরও দুটি কেমোথেরাপি সাইকেল দিতে হবে। এরপর চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে হতে পারে ‘বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট’ (BMT) বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন। এই পরবর্তী ধাপের চিকিৎসার জন্য আনুমানিক আরও ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন।

কিন্তু সন্তানের জীবনের জন্য ইতোমধ্যে সর্বস্ব শেষ করে ফেলা বাবা-মায়ের সামনে এখন এই ২৫-৩০ লাখ টাকা এক বিশাল ও অলঙ্ঘনীয় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থের অভাবে যেন একটি তাজা প্রাণ ঝরে না যায়, সেই শঙ্কায় দিন কাটছে পরিবারটির।

অতুনের বাবা রঞ্জন চক্রবর্তী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পিতা হিসেবে সন্তানের এই কষ্ট চোখের সামনে দেখা কতটা যন্ত্রণাদায়ক, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমরা আমাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি, কিন্তু আর পেরে উঠছি না। সবার কাছে আমাদের একটাই আকুতি-আমাদের অতুনকে বাঁচান।

পরিবারটি জানায়, সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সামান্য সহমর্মিতাই অতুনের বন্ধ হতে বসা চিকিৎসার পথ আবার খুলে দিতে পারে।

যারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে পারছেন না, তাদের কাছে অনুরোধ-আবেদনটি যেন পরিচিতজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। আপনার একটি শেয়ার কিংবা সামান্য সহযোগিতাই হতে পারে অতুনের নতুন জীবনের আলো।

একটি মানবিক আহ্বান: একটি নিষ্পাপ ফুলের মতো শিশুর জীবন বাঁচাতে আপনার সামান্য সহানুভূতি ও সহযোগিতাই হতে পারে একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় আশার প্রদীপ। আসুন, অতুনের পাশে দাঁড়াই-সাহায্য করি, প্রার্থনা করি এবং এই বার্তাটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিই।

অতুনের পরিচিতি-নাম: অতুন চক্রবর্তী, বয়স: ১০ বছর, পিতা: রঞ্জন চক্রবর্তী, মাতা: মনি চক্রবর্তী, রোগ: Diffuse Large B-Cell Lymphoma (DLBCL), Non-Germinal Centre Type. বর্তমান চিকিৎসাস্থল: Jaslok Hospital & Research Centre, Mumbai.

সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম : ব্যাংক হিসাব details: ব্যাংক: Prime Bank (Laldighi East Branch), হিসাবের নাম: RANJAN CHAKRABORTY, হিসাব নম্বর: 2145212007406.

যোগাযোগ ও মোবাইল ব্যাংকিং: পিতা (রঞ্জন চক্রবর্তী): +880 1670-481435 (হোয়াটসঅ্যাপ), মাতা (মনি চক্রবর্তী): 01776520004 (বিকাশ নম্বর)

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি