তাহসিন খুনের নেপথ্যে ইট-বালুর রাজ্য ও আধিপত্য: ৩ দিনের রিমান্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১২

চট্টগ্রাম নগরীর চাঁন্দগাঁও এলাকার সেই চাঞ্চল্যকর কালো নোয়াহ অভিযানের পেছনের মূল হোতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন অবশেষে আইনের জালে।

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী আফতাব উদ্দিন তাহসিনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ডেভিড ইমনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন চট্টগ্রাম আদালত।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যেভাবে ঘটেছিল সেই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড
২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর। নগরের চাঁন্দগাঁও থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে জাগরণী সংঘ ক্লাব এলাকা। হঠাৎ একটি কালো রঙের নোয়াহ গাড়ি এসে থামে।

গাড়ি থেকে নেমেই সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে গুলি চালায় এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকর্মী আফতাব উদ্দিন তাহসিনের ওপর।

তাহসিন ছিলেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য আরশাদুল আলম বাচ্চুর অনুসারী। গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা, ঘটনাস্থলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তাহসিন।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানায়, কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নয়-মূলত নগরীর ইট ও বালুর ব্যবসার একছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছিল এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ছক।

ঘটনার পরদিন ২২ অক্টোবর তাহসিনের বাবা মো. মুছা বাদী হয়ে চাঁন্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাজ্জাদসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়।

গত বছরের ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির পর গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনসহ তার চার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট তাহসিন হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ তাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানালে শুনানি শেষে সোমবার আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্যে বেরিয়ে এসেছে ডেভিড ইমনের অপরাধ জগতের চাঞ্চল্যকর চিত্র। সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, কেবল সিএমপিতেই ইমনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি গুরুতর মামলা রয়েছে।

সোমবার তাহসিন হত্যা মামলার পাশাপাশি গত বছরের ২৩ মে সংঘটিত সন্ত্রাসী আলী আকবর ওরফে ‘ঢাকাইয়া আকবর’ হত্যা মামলাতেও ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

এছাড়া, গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে জনপ্রিয় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন) কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাতেও তাকে গ্রেফতার দেখানোর প্রস্তুতি চলছে।

জেলা ও নগরের একাধিক মামলায় ইতোপূর্বেও কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশা, এবারের তিন দিনের রিমান্ডে তাহসিন হত্যাকাণ্ডসহ চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের একাধিক গোপন সমীকরণ ও অর্থ জোগানদাতাদের নাম প্রকাশ্যে আসবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি