বাসার কাছেই পার্কিং নিয়ে তর্ক, পুলিশের এসআইকে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৫

সাভারের আমিনবাজার পোশাক কারখানার সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের মতো সাধারণ বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬) মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকার মদিনা হাউজিংয়ের সামনে এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত আলতাফ হোসেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ঢাকা মালিবাগ জোনে উপ-পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মদিনা হাউজিং এলাকায় পোশাক কারখানার সামনে গাড়ি পার্ক করা নিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলের সাথে স্থানীয় ১০ থেকে ১৫ জন যুবকের কথা কাটাকাটি হয়।

উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘবদ্ধ দলটি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবা-ছেলের ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং বেধড়ক পেটাতে থাকে। হামলাকারীদের নির্মম আঘাতে দুজনই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত সাড় ৯টার দিকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আরিফুল ইসলাম বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, নিজের বাসার কাছেই গাড়ি পার্কিংয়ের মতো সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এসআই ও তাঁর ছেলে হামলার শিকার হন। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে এসবির সাভার জোনের এএসআই মাসুদ রানা জানান, নিহত আলতাফ হোসেন এসবির এসআই হিসেবে মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন, সাভার জোনে নয়। আমিনবাজার এলাকায় তাঁর নিজস্ব জায়গা রয়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের বাইরে অন্য কোনো ক্ষোভ বা কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একজন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার ওপর এমন সংঘবদ্ধ ও নির্মম হামলায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার মূল অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি