চারদিকে গহিন জঙ্গল, আর তার মাঝখানে একটি নির্জন টং ঘর। সেখানেই জড়ো হয়েছিল একদল দুর্ধর্ষ ডাকাত। কিন্তু তাদের সেই মাস্টারপ্ল্যান ভেস্তে দিতে সময় নেয়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ফটিকছড়ি থানা পুলিশের আকস্মিক অভিযানে ১০টি মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অন্যতম প্রধান সহযোগী মোঃ মোবারক হোসেন ওরফে ‘টেস্টার মোবারক’ (৩২)।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফটিকছড়ি থানাধীন কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার চাইল্লাতলী কাশেম চেয়ারম্যানের টিলা (স্থানীয়ভাবে শফির টিলা নামে পরিচিত) এলাকায় পরিচালিত এক দুঃসাহসিক অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি মোবারক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাশেম চেয়ারম্যানের টিলার ওপর নির্জন টং ঘরে একদল সশস্ত্র অপরাধী ডাকাতির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে-এমন গোপন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে ফটিকছড়ি থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ঘিরে ফেলে।
চতুর ডাকাতদল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের গহিন জঙ্গলের আঁধারে গা-ঢাকা দেয়। সঙ্গীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুলিশের ক্ষিপ্রগতির সামনে পরাস্ত হয় মোবারক হোসেন। পিছু হটার সব পথ বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশ তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করে।
উদ্ধার হলো মারাত্মক সব অস্ত্র পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় বিশাল এক অস্ত্রের মজুদ।
উদ্ধারকৃত ১০টি দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে, কাঠের বাটযুক্ত ২টি ধারালো ছোড়া বা তরবারী, স্টিলের হাতলযুক্ত ১টি রামদা ও কাঠের বাটযুক্ত ১টি রামদা, ১টি লোহার শাবল, ১টি ধারালো ছুরি ও ১টি ধারালো ধামা, ১টি ধারালো দা, ১টি এসএস পাইপ এবং ১টি লোহার রড।
শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ‘ডানহাত’ এই টেস্টার মোবারক পুলিশের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গ্রেপ্তারকৃত ‘টেস্টার মোবারক’ কেবল সাধারণ কোনো দুষ্কৃতকারী নয়, সে চট্টগ্রাম জেলার অন্যতম আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ‘ডেবিট ইমন’ এবং মোঃ মোবারক হোসেন ওরফে ‘কালা মোবারক’ এর সক্রিয় সহযোগী।
এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধের নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখতে সে নেপথ্য ভূমিকা পালন করে আসছিল।
আইনি ব্যবস্থা ও চিরুনি অভিযান এই ঘটনার পর গ্রেপ্তারকৃত মোবারক হোসেনসহ পালিয়ে যাওয়া সহযোগীদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি থানা পুলিশ জানিয়েছে, আঁধারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য আসামিদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মূল উপড়ে ফেলতে গহিন অঞ্চলে পুলিশি তল্লাশি ও চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


