নির্জন আসর থেকে কাঠগড়ায় ইপিজেডের ‘জুয়ার মাস্টারমাইন্ড’ ওসমান

টাকার বিনিময়ে বসাতেন জুয়ার ঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৫

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোডের নির্জন এক এলাকা ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আড়ালে চলা অপরাধের সাম্রাজ্যে আঘাত হানতে মুহূর্তও দেরি করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অভিযানের পরিণতি-হাতেনাতে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামজুড়ে পরিচিত পেশাদার জুয়াড়ি মো. ওসমান গণি (২৭)।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১টার দিকে ইপিজেড থানার বিশেষ একটি টিম সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে আকমল আলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ওসমান গণি মূলতঃ হাটহাজারী থানার ১১ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নগরীর ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড এলাকাকে নিজের অস্থায়ী আস্তানা ও আড়ালে জুয়ার কারবার পরিচালনার মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, নগরীর দুর্গম ও নির্জন এলাকাগুলোকে লক্ষ্য বানিয়ে সেখানে টাকার বিনিময়ে অবৈধ জুয়ার আসর ও ঘর তৈরিতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন ওসমান গণি।

শুধু আসর বসানোই নয়, শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা জুয়াড়িদের নিরাপদে থাকার আশ্রয়, উসকানি ও সব ধরনের নেপথ্য সহায়তা দিতেন তিনি। বছরের পর বছর প্রশাসনের চোখ আড়াল করার নানা কৌশল ব্যবহার করে আসছিলেন এই ‘আসরের কারিগর’।

ইপিজেড থানা পুলিশ জানায়, ওসমান গণি কেবল একজন সাধারণ জুয়াড়ি নন, বরং নগরীর অপরাধ জগতে তিনি একজন পেশাদার জুয়া পরিচালক হিসেবে চিহ্নিত।

তাঁর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও জুয়া খেলা ও আসর আয়োজনের অভিযোগে ইপিজেড থানায় দুটি পৃথক মামলা রয়েছে। পূর্বের মামলাগুলো মাথায় থাকা সত্ত্বেও তিনি আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

সর্বশেষ শনিবার রাতের গ্রেপ্তারের ঘটনাতেও তাঁর বিরুদ্ধে ইপিজেড থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও একাধিক জুয়ার মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত ওসমান গণিকে যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি