চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর থাবায় ঝরল ৮ বছরের ফুটফুটে প্রাণ: চলতি বছরে মৃত্যুর সংখ্যা ছুঁল ১০

২৪ ঘণ্টায় ৫৪ জন হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২১

হালিশহরের অবোঝ শিশু আবরার আর হাসবে না। চিকিৎসকের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ডেঙ্গুর বিষাক্ত দংশনে থামে গেল আট বছরের একটি ছোট্ট প্রাণ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে টানা ছয় দিন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।

জানা গেছে, নগরের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা আবরারকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ সেপ্টেম্বর চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রক্ত পরীক্ষায় তার শরীরে ‘এনএসওয়ান পজিটিভ’ বা ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ডেঙ্গুর মারাত্মক ও জটিল রূপ—‘এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত হয়ে ঢলে পড়ে সে অকালমৃত্যুর কোলে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু রোগীর বিবরণীতে এই করুণ খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে, নগরজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।

একই সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন এবং চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও নতুন করে ছয়জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৬ জনে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২ হাজার ৩৮০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ৪১৬ জন রোগী শনাক্ত করা হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫৬৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও ডেঙ্গুর ভয়াল গ্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন।

চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি