অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বকেয়া দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়করই পরিশোধ করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানটির দায়ের করা রিট খারিজ করে দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন।
রায়ে এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া কর দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে এনবিআর-কে অবিলম্বে চাহিদাপত্র (ডিমান্ড নোটিশ) জারির স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে আদালত এক গুরুত্বপূর্ণ আইনি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। রায়ে বলা হয়, ‘গ্রামীণ টেলিকম’-এর নামে জমাকৃত উৎসে করের (TDS) চালানের সুবিধা বা ক্রেডিট কোনোভাবেই ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ নিজেদের কর পরিশোধ হিসেবে দাবি করতে পারে না।
দুই প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র হওয়ায় একটির কর ছাড় বা সুবিধা অন্যটির অনুকূলে সমন্বয় করার আইনি কোনো সুযোগ নেই।
ঘটনার সূত্রপাত এনবিআরের আয়কর বিভাগের একটি দাবিকে কেন্দ্র করে। গ্রামীণ কল্যাণের বিগত পাঁচটি অর্থ বছরের আয়কর হিসাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এনবিআর ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবি করে।
এনবিআরের এই কর দাবির বৈধতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিল গ্রামীণ কল্যাণ কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর আদালত রিটটি খারিজ করে এনবিআরের পক্ষে রায় দেন। সোমবার সেই রায়েরই পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সর্বসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হলো।
হাইকোর্টের এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এনবিআরের বকেয়া রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধা কেটে গেল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন সবার নজর।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


