চুয়েটে টানা দুই দিন উপাচার্য অবরুদ্ধ: কেমন আছেন অধ্যাপক শরীফুল?

প্রেসার মেপে দুই চিকিৎসকের দুই সুর! রক্তচাপ আসলে কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২০

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অচলাবস্থা কাটছে না। নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত দুই দিন ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

দীর্ঘ এই অবরুদ্ধ দশার মধ্যে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। একেক চিকিৎসকের মুখে একেক রকম তথ্যের কারণে পুরো পরিস্থিতি এখন এক রহস্যময় মোড় নিয়েছে।

সোমবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিলে ভেতরে আটকা পড়েন উপাচার্য। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পান।

কিছুক্ষণের মধ্যেই চুয়েট মেডিকেল সেন্টার এবং রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি আলাদা মেডিকেল টিম উপাচার্যকে দেখতে ভেতরে প্রবেশ করে।

কিন্তু বিপত্তি বাধে দুই চিকিৎসকের বক্তব্যে চরম অমিল দেখা দেওয়ায়।

চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. শাহাবুদ্দিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দাবি করেন, উপাচার্য সুস্থ আছেন, তার কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। তার রক্তচাপ স্বাভাবিক (১২০/৮০) পাওয়া গেছে। তিনি হাসপাতালে যাওয়ার কথাও কিছু বলেননি।

এর ঠিক কিছু সময় পর রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. টিপলু কান্তি দে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, উপাচার্যের শরীরের বাঁ পাশে ব্যথা রয়েছে এবং তার রক্তচাপ বেশ চড়া, ১৫০/১০০। তিনি আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেতেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে যেতে প্রস্তুত আছেন।

দুই চিকিৎসকের এমন বিপরীত বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। পরে ডা. শাহাবুদ্দিনকে পুনরায় ডেকে এনে যৌথভাবে আবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলেও দুজন চিকিৎসকই তাদের আগের বক্তব্যে অনড় থাকেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইইই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে সরব হন শিক্ষার্থীরা।

এই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে শিক্ষার্থীরা শুরু করেন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। একই দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করায় গত ২০ দিন ধরে চুয়েটে সমস্ত ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

উপাচার্যের স্বাস্থ্য নিয়ে এই টানাপোড়েন এবং চুয়েটের অচলাবস্থা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও শিক্ষাঙ্গণ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি