জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সব ঠিক থাকলে আজ অনুষ্ঠেয় কমিশনের ১০তম সভায় তফশিল চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ওই সভায় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে এ পর্যন্ত নেওয়া কার্যক্রম এবং তফশিল ঘোষণার পরে করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতিসহ ৯টি এজেন্ডা রয়েছে।
এর আগে শনিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
আরও পড়ুন
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, তফশিল ঘোষণার জন্য যেসব প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, সেগুলো আমরা নিয়েছি। নির্বাচন আয়োজনে আইনগত কোনো সমস্যাও নেই।
সামনে নির্বাচন কমিশন তফশিল ঘোষণা করবে। তবে কবে তফশিল ঘোষণা করা হবে, সেই তারিখ জানাতে পারেননি তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আজ কমিশনের ১০তম সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
সভার এজেন্ডাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-আইন ও রীতির আলোকে তফশিল পূর্ব ও পরবর্তী কার্যক্রমসমূহ; গণভোট আয়োজনসহ সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা; মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ যোগাযোগ, মতবিনিময় ও সমন্বয়সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত।
রেওয়াজ ও নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল কমিশন সভায় চূড়ান্ত হয়ে থাকে।
ইসির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বড় কোনো অঘটন না হলে আজই তফশিল চূড়ান্ত হতে পারে। ১০ ডিসেম্বর বুধবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার তফশিল ঘোষণা হতে পারে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, শনিবার ইসির সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে কর্মকর্তাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠকে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নেওয়া প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। তফশিল ঘোষণার পর কী কী কাজ বাকি রয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
মূলত কমিশন সভার আগে প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওই কাজগুলো আবারও পর্যালোচনা করেছি, যেন কোথাও কোনো ঘাটতি না থাকে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজন করার কারণে কিছু কিছু নতুন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। সেগুলো নিয়েও পর্যালোচনা করেছি।
এদিকে ইসির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান আইন আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধনী বৃহস্পতিবার অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আজ রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনীর গেজেট প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
এর ফলে নির্বাচন আয়োজনে আইনি সংস্কারের আর কাজ অবশিষ্ট নেই। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট রয়েছে। তবে ওইসব রিট থাকলেও নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা নিয়ে আইনি জটিলতা নেই বলে মনে করছেন ইসির কর্মকর্তারা।



