back to top

ফুল বিজুতে মঙ্গল প্রার্থনা: পাহাড়ে উৎসবের রঙিন সূচনা

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৩৩

সাঙ্গু নদী আজ যেন রূপ নিয়েছিল এক জীবন্ত ক্যানভাসে। রোববার (১২ এপ্রিল) ভোরের আলো ফুটতেই নদীর জলে ভেসে উঠল রঙিন ফুল—বিজু, মাধবীলতা, রঙ্গনসহ নানা প্রজাতির ফুল।

চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর থেকে তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন এই আয়োজনের। ফুল নিবেদনের মাধ্যমে তারা প্রার্থনা করেন জলবুদ্ধ ও মা গঙ্গার কাছে—সবার মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য।

ফুল বিজু: ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও আবেগের মেলবন্ধন
বিজু উৎসব শুধু একটি উৎসব নয়, এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনধারা ও সংস্কৃতির গভীর প্রতিফলন। বাংলা নববর্ষের আগের দিন পালিত ফুল বিজুর মধ্য দিয়েই শুরু হয় বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা।

এই দিনে নদীতে ফুল ভাসানো মানে শুধু আচার নয়—এটি এক ধরনের প্রার্থনা, অতীতের কৃতজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের আশীর্বাদ কামনা।

ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় রঙিন পাহাড়
বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—এই তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ১১টি জাতিগোষ্ঠীর জন্য এটি সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব।

চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, ম্রো, খুমী, খেয়াংসহ নানা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে পুরো পাহাড়জুড়ে সৃষ্টি হয় এক মিলনমেলা।

সপ্তাহজুড়ে উৎসবের বর্ণিল আয়োজন
বিজু-বৈসু-বিষু উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় চলছে নানা আয়োজন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-তঞ্চঙ্গ্যাদের ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা, মারমাদের রিলংবোই (পানি বর্ষণ উৎসব), বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ মূর্তি স্নান, ঘরে ঘরে পিঠা তৈরির আয়োজন এবং সাংগ্রাইং র‍্যালি ও বয়স্ক পূজা।

পুরো সপ্তাহজুড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনপদ উৎসবের আনন্দে মুখর থাকবে।

পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাই। সবার মঙ্গল কামনায় ফুল নিবেদন করি”—বললেন অংশগ্রহণকারী মার্জিতা চাকমা।

উজ্জল তঞ্চঙ্গ্যার ভাষায়, “এটি আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের বিশ্বাস—সবার ভালো থাকার প্রার্থনা।”

ফুল বিজু শুধু একটি উৎসব নয়—এটি প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানবিকতার এক অপূর্ব সমন্বয়। সাঙ্গুর বুকে ভাসমান ফুল যেন জানান দেয়—“পুরনো দুঃখ ভেসে যাক, নতুন বছরে আসুক শান্তি ও সমৃদ্ধি।”

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আর এসপি