back to top

সিডিএ’র প্রকল্পে অনিয়মের ছাপ: খোঁড়াখুঁড়ির সড়কে বছরজুড়ে ভোগান্তি

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:২২

চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনির বিহারী মসজিদ রোড থেকে মিনার পর্যন্ত সিডিএ (CDA) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের আশায়।

তবে বাস্তবে প্রকল্পটি এখন উল্টো ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজের ধীরগতি, বিভিন্ন অংশে কাজ বন্ধ থাকা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে প্রকল্পটি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘসূত্রতা ও জনভোগান্তি
সিডিএ (CDA) বাস্তবায়নাধীন কোটি কোটি টাকার বাজেটের প্রকল্পটি “বছরের পর বছর” ধরে ঝুলে আছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় পুরো এলাকা এখন “খোঁড়াখুঁড়ির ফাঁদে” বন্দি।

বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম জনদুর্ভোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও বড় গর্ত, কোথাও খানাখন্দ। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, রিকশাচালক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাঁদায় পরিণত হয়, আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে ভরে যায় পুরো এলাকা। যা পরিবেশ দূষণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকল্পটির কাজ শুরুর পর থেকেই গতি ছিল অত্যন্ত শ্লথ; বর্তমানে অনেক অংশে কাজ একেবারেই বন্ধ।

একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। বরং সময় যত যাচ্ছে, দুর্ভোগ তত বাড়ছে।

মো. সাইফুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “শুরু থেকেই কাজ ধীরগতির। এখন তো অনেক জায়গায় বন্ধ। প্রতিদিন চলাচল করা কষ্টকর হয়ে গেছে।”

বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাঁদায় পরিণত হয়, ফলে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আবার শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির প্রকোপ বেড়ে পরিবেশ দূষণ বাড়াচ্ছে, সৃষ্টি করছে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি।

রিকশাচালক আব্দুল করিম জানান, “গর্ত এড়িয়ে চালাতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা হয়। এই রাস্তায় যাত্রীও উঠতে চায় না।”

মফিদুল নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, “ধুলা আর কাঁদার কারণে দোকানে ক্রেতা কমে গেছে। আমরা আর্থিক ক্ষতির মধ্যে আছি।”

কাজের নিম্নমান ও অনিয়ম
শুধু ভোগান্তিই নয়, সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—প্রকল্পে ভালো মানের টাইলস ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ARK কোম্পানির টাইলস ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘বেস্ট ওয়ান এ ওয়ান’ নামে একটি টাইলস। এই টাইলসের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, পা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই টাইলস ভেঙে যাচ্ছে, যা নির্মাণমান নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি করেছে।

এতে শুধু নির্মাণমান নয়, বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু প্রকৌশলীকে ‘ম্যানেজ’ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে, যার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।

এলাকাবাসীর মতে, এতে একদিকে যেমন জনভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে অপচয় হচ্ছে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ। তারা প্রশ্ন তুলছেন—এ প্রকল্পের তদারকি কোথায়? কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন কাজ বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে? কার স্বার্থে নিম্নমানের কাজ চলতে দেওয়া হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে-অল্প সময়েই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়বে। সরকারি অর্থের অপচয় হবে এবং জনদুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।

এক্ষেত্রে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে এবং মান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অন্যথায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে সিডিএর সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে, তবে শিগগিরই শেষ করা হবে। মানের বিষয়ে অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হবে প্রকাশিত সংবাদে তা যুক্ত করা হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আর এসপি