back to top

চট্টগ্রাম ডুবে যাওয়ার খবর ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত’: মীর শাহে আলম

জলাবদ্ধতা নিরসনে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি, নেতৃত্বে থাকবেন মেয়র

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:২৩

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের টাইগারপাস কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় নগরের জলাবদ্ধতা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মীর শাহে আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রাম নগর ডুবে যাওয়ার যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত’।

তিনি জানান, সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে নগরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

শুধু প্রবর্তক মোড় এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িক জলজট দেখা গেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান খাল সংস্কার প্রকল্পের কারণে কয়েকটি স্থানে পানি প্রবাহে সাময়িক বাধা তৈরি হয়েছে।

এসব প্রতিবন্ধকতা আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে সরিয়ে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

তিনি জানান, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড ইতিমধ্যে নগরের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ করেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৬ হাজারের বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বাকি খালগুলোর কাজও চলমান রয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মীর শাহে আলমের দাবি, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমেছে। আগামী মৌসুমে এটি ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ একাধিক সংস্থা কাজ করছে।

এ কারণে অনেক সময় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দেয়। এই সমস্যা দূর করতে মেয়রের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে, যাতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত এক বছরে সমন্বিত উদ্যোগের ফলে নগরের জলাবদ্ধতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে।

চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে এই অগ্রগতি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মেয়র জানান, নগর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আগামী ১৫ মে একটি সমন্বিত নাগরিক সেবা অ্যাপ চালু করা হবে।

এই অ্যাপের মাধ্যমে কোথায় ময়লা জমেছে, কোথায় ম্যানহোলের ঢাকনা নেই কিংবা কোথায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে—এসব তথ্য নাগরিকেরা সরাসরি জানাতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তনও জরুরি।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতিমধ্যে দেশের সেরা সেবা প্রদানকারী সিটি কর্পোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ভবিষ্যতেও নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করতে কাজ চলবে।

সভায় বিভিন্ন সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি