চট্টগ্রাম নগরীর এবি ব্যাংক–এর জুবিলি রোড শাখা থেকে ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা আত্মসাতের মামলায় গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুম নামে এক ব্যবসায়ীকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই মামলায় অপর আসামি মোহাম্মদ নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুম সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে। রায়ের সময় তিনি পলাতক ছিলেন। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকারম হোসেন বলেন, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য–প্রমাণে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
এ কারণে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় তাঁকে পাঁচ বছর, ৪২০ ধারায় এক বছর এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ৪ ধারায় আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
এ ছাড়া তাঁকে আত্মসাৎ করা ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এই অর্থ অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডের ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন এবি ব্যাংক–এর জুবিলি রোড শাখা থেকে বৈদেশিক ও স্থানীয় এলসির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেন।
পরে এলসির বিপরীতে আমদানি করা পণ্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে না রেখে বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। একই সঙ্গে ঋণের অর্থও পরিশোধ করেননি।
এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ এবি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানায় এ মামলা করেন।
তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ৪ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



