back to top

২০ কোটি টাকার রেলের জমি দখলমুক্ত করতে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ!

লিজগ্রহীতার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত

প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৬ ১১:১০

চট্টগ্রামের এসআরবি স্টেশনে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রায় ২০ কোটি টাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ জমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকলেও তা উদ্ধারে কার্যকর কোনো অগ্রগতি নেই।

লিজ দেওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও জমিটি এখনো লিজগ্রহীতার কাছে বুঝিয়ে দিতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ফলে একদিকে অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ।

২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর ‘উৎস ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে জমিটি লিজ দেয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।

তবে এর আগ থেকেই টিটু চৌধুরী, সেকান্দর, আরিফ ও মালেকসহ কয়েকজন ব্যক্তি জমিটি অবৈধভাবে দখলে রেখে সেখানে তেলের ড্রাম, লোহা, তার ও জাহাজের বিভিন্ন সরঞ্জাম মজুত করে রেখেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বালি ভরাট করা ওই জমিতে এখনো দখলদারদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যেখানে ১০–১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ‘উৎস ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ, তারা নিয়ম মেনে লিজ পাওয়ার পরও জমির দখল বুঝে পাননি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জমিতে সাইনবোর্ড টাঙানোর চেষ্টা করলে দখলদাররা তা ভেঙে ফেলে। এতে রেলওয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগ দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিলেও ছয় মাসেও কোনো মাঠপর্যায়ের অভিযান দেখা যায়নি।

এর আগেই ৮ ফেব্রুয়ারি এক দখলদার পক্ষ থেকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত অভিযোগে বরাদ্দ প্রক্রিয়ার নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়। তথ্যসূত্র-সিপি

অভিযোগের বিষয়ে টিটু চৌধুরী দাবি করেন, তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং জমিটি বহিরাগত কোনো পক্ষকে লিজ দেওয়া হয়েছে।

তবে অন্যদিকে সেকান্দর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী এস এম মোসাব্বির বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে জমি লিজ নিয়েছি, কিন্তু এখনো দখল বুঝে পাইনি।

রেলওয়ে আমাদের ধৈর্য ধরতে বলেছে। ফেব্রুয়ারিতে সাইনবোর্ড টাঙালেও তা ভেঙে ফেলা হয়। আমরা এখন রেলের দিকেই তাকিয়ে আছি।”

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল অবশ্য দাবি করছে, জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নিয়ম মেনেই। জনসংযোগ দপ্তর থেকে এ বিষয়ে প্রতিবাদলিপিও প্রচার করা হয়েছে। তবে ভূ-সম্পত্তি বিভাগ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “যারা দখলে আছেন তারা বৈধ হলে কাগজপত্র দেখাতে পারবেন। রেলওয়ে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালায়। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

নীতিমালা, দখলদারিত্ব এবং প্রশাসনিক ধীরগতির দ্বন্দ্বে চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ রেলসম্পত্তি এখনো অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে।

লিজগ্রহীতার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হলেও জমির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি