back to top

মিরপুরে টাইগারদের দাপট: ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়া বধ

মোসাদ্দেকের ব্যাট, নাহিদের আগুনে পুড়ল অজিরা

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬ ০৮:০৩

দীর্ঘ ২১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে আবারও অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ।

২০০৫ সালের কার্ডিফের ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় টাইগাররা।

মঙ্গলবার টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৮৪ রান। জবাবে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তুলতেই বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর ম্যাচ অফিসিয়ালরা বাংলাদেশকে জয়ী ঘোষণা করেন।

অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ার শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাট শর্টকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ।

পরের ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করে সফরকারীদের আরও চাপে ফেলে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। মাত্র ২ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

এই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক জশ ইংলিস। কুপার কনলির সঙ্গে তিনি একটি জুটি গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিলেও বাংলাদেশের বোলারদের ধারাবাহিক আক্রমণে সেই সম্ভাবনা বেশিদূর এগোয়নি।

বিশেষ করে নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের নিয়ন্ত্রিত এবং আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।

কুপার কনলি ৩৫, অ্যালেক্স ক্যারি ৪৭ এবং ম্যাট রেনশ ২ রান করে ফিরলে অস্ট্রেলিয়ার লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্দান্ত গতির বোলিংয়ে নাহিদ রানা ৪১ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি সেরা বোলিং ফিগার। একই সঙ্গে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ৪ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে নাম লেখান ইতিহাসে।

বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি অসাধারণ ক্যাচ ধরে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

তবে তার সবচেয়ে বড় অবদান আসে ব্যাট হাতে। প্রায় চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ছয় নম্বরে নেমে খেলেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস।

মাত্র ৭০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কার সাহায্যে ৮৬ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে যান শক্ত অবস্থানে।

বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম। শান্ত ৬৭ এবং তামিম ৫৪ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

শেষদিকে তাসকিন আহমেদের ১৫ বলে ২০ রানের ঝড়ো ইনিংস দলীয় সংগ্রহকে আরও সমৃদ্ধ করে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন নাথান এলিস। এছাড়া ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

ম্যাচের একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল নাহিদ রানার আগুনঝরা স্পেলে জশ ইংলিসের উইকেট। অতিরিক্ত গতির বল দারুণ লেংথে ফেলে অজি অধিনায়ককে উইকেটরক্ষকের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। উইকেট নেওয়ার পর কিছুটা উত্তেজনাও দেখা যায় মাঠে, যদিও তা বড় কোনো ঘটনার জন্ম দেয়নি।

অন্যদিকে অ্যালেক্স ক্যারি চেষ্টা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরানোর। কুপার কনলির সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন তিনি।

পরে ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে কিছুটা লড়াই চালিয়ে গেলেও ৪৭ রানে নাহিদ রানার শিকার হয়ে ফেরেন। তার বিদায়ের পর ম্যাচ কার্যত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই চলে যায়।

১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যাডাম জাম্পা ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় তারা ৩৪ বলে ৩৫ রান যোগ করে অপরাজিত ছিলেন। তবে তখন ম্যাচের ফল অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল।

বাংলাদেশের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা ও সাহসের এক অনন্য প্রদর্শনী। ২০০৫ সালের কার্ডিফের স্মরণীয় জয়ের পর আবারও ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে টাইগাররা।

বিশেষ করে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন এবং নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিং বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।

এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার একই মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। মিরপুরে টাইগারদের এই গর্জনের পর ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশাও বেড়েছে বহুগুণ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি