উপজেলা পর্যায়ের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক বিষয়াদি তদারকির জন্য ‘মাসিক সমন্বয় সভা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়মিত একটি আয়োজন।
অথচ চট্টগ্রাম-১৪ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্যের একগুচ্ছ ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চন্দনাইশে অনুষ্ঠিতই হতে পারল না বহু প্রতীক্ষিত এই দুই প্রশাসনিক সভা।
প্রকাশিত এক নথিতে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চন্দনাইশ উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমদের।
সংসদ সদস্যের দপ্তর থেকে প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই সভাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে দিনশেষে সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্ধারিত সময়ে বা দিনের অন্য কোনো সময়েই বৈঠক দুটি অনুষ্ঠিত হয়নি।
সংবাদ অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত দিন সকাল থেকেই সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমদের টানা সরকারি ও দলীয় কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।
সকাল সাড়ে ১০টায় গাছবাড়িয়া কলেজ ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, সাড়ে ১১টায় দোহাজারীতে গ্রামীণ ক্ষুদ্র মেলা উদ্বোধন, দুপুর ১২টায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট পরিদর্শন ও সংস্কার কাজের সূচনা এবং ১২টা ১৫ মিনিটে দোহাজারী পৌরসভার নাগরিক কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
দুপুর ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় দেশব্যাপী সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল। এই দলীয় মিছিলটি ছাড়া দিনের বাকি সবকটি কর্মসূচিতেই সংসদ সদস্যের সফরসঙ্গী হিসেবে দেখা গেছে উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
সংসদ সদস্যকে প্রটোকল দেওয়ার এই ধারাবাহিকতায় উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমদুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমা এবং চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম. দিদারুল ইসলাম সিকদারসহ প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
প্রশাসনিক কাজের প্রধান কর্তাব্যক্তিরা দিনভর এমপির সফরসঙ্গী হয়ে মাঠপর্যায়ে ব্যস্ত থাকায় চন্দনাইশের নিয়মিত সরকারি সভা দুটি ভেস্তে গেছে কি না-তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সচেতন মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভা স্থগিতের পেছনে এমপির প্রটোকল রক্ষা ও বেসরকারি কর্মসূচিতে প্রশাসন যুক্ত থাকাই মূল কারণ কি না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল বক্তব্য জানতে এবং সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ সভা স্থগিতের যৌক্তিক কারণ ও পরবর্তী সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে জানতে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সভা বাতিল বা স্থগিত করে অন্য কর্মসূচিতে সরকারি কর্তাদের এমন উপস্থিতি কি নিয়মতান্ত্রিক, নাকি প্রটোকল রক্ষার বলি হতে হলো এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত আলোচনাকে-এখন সেই প্রশ্নেরই জবাব খুঁজছেন চন্দনাইশবাসী।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


