চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও নজিরবিহীন নাটকীয়তার অবসান ঘটেছে।
শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকা নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে শেষ পর্যন্ত কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় উদ্ধার করে ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে এই বিদায়ের নেপথ্যে ছিল শিক্ষার্থীদের দেওয়া এক কঠোর শর্ত ও তুমুল হট্টগোল।
যে শর্তে ছাড়লেন ক্যাম্পাস
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রশাসনিক ভবন থেকে উপাচার্যকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। এ সময় মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেন, ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতেই এই শর্তের বিষয়টি চাউর হয় এবং শিক্ষার্থীদের ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানের মধ্যেই তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়।
উত্তাল চত্বরের পটভূমি
চুয়েটে এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সূত্রপাত হয় গত ২১ সেপ্টেম্বর। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন।
ওই দিনই উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মুখোশ মিছিল, চোখ বাঁধা প্রতিবাদ এবং সর্বাত্মক ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে সোমবার (১২ অক্টোবর)। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই এদিন সকালে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি, যা পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয়। এর জেরে শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন তীব্র করে তোলেন এবং তাকে অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দেন।
শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অসহযোগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অভ্যন্তরীণ অংশীজনেরাও। সোমবারই চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
শিক্ষক ও কর্মচারীদের লাগাতার কর্মবিরতিতে পুরোপুরি থমকে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সামাল দিতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকে বলেন, একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।
অবশেষে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় এবং শিক্ষার্থীদের দেওয়া শর্ত মেনেই সন্ধ্যা ৬টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য।
তবে তাকে ঠিক কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই দূরুত্ব এবং আকস্মিক নাটকীয়তায় পুরো ক্যাম্পাসে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


