back to top

আইআইইউসি’র ৬ষ্ঠ সমাবর্তনে ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:২৮

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) এর ষষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একযোগে ৭ হাজার ৯শ ৪৯ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।

এর মধ্যে ১৩ জন শিক্ষার্থী পেয়েছেন চ্যান্সেলর পুরস্কার এবং ৫১ জন পেয়েছেন ভাইস-চ্যান্সেলর পুরস্কার।

আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে কুমিরাস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসব শিক্ষার্থীদের হাতে ডিগ্রি সনদ তুলে দেন আইআইইউসি’র চ্যান্সলের ও রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ।

সমর্বতন অনুষ্ঠানে এবারের ডিগ্রি সনদ গ্রহণ করা ইংরেজি বিভাগের মেধাবী নুসরাত জাহান তিথি বলেন, চার বছরের শিক্ষা জীবন পার করে গ্র্যজুয়েট হয়েছি। ফেলে আসা অনুভূতিগুলো নতুন করে উঁকি দিচ্ছে মনের কোণে। শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষাজীবন শেষে কীভাবে নীতি ও আদর্শের জীবন গড়বো সেই নৈতিকতা অর্জন করেছি।

এ শিক্ষা জীবনের সফলতা বয়ে আসবে বলে জানান তিনি। কথা বলা সময় গাউন পড়া এই শিক্ষার্থীর মুখে ফুটেছে হাঁসি। হৃদয়ে জেগেছে সজীবতা।

মো. নুরুল আনোয়ার নামে অপর এক গ্র্যাজুয়েট বলেন, আমি ২০২২ সালে আইন (ল) বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছি। শিক্ষার্থী হিসেবে অনুভূতি আর এখনকার অনুভূতি একদমই আলাদা।

দীর্ঘদিন পর বিভাগের শিক্ষক, সহপাঠী, বিভাগের জুনিয়রদের দেখে খুবই আনন্দ হচ্ছে। একবারও মনে হচ্ছে না আমরা এখান থেকে চলে গেছি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ তার বক্তব্যে বলেছেন, সমাবর্তন একটি একাডেমিক ঐতিহ্য। এটি জাতীয় তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী দেশের ভবিষ্যতের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। এমন কী নেতৃত্বের পরবর্তী প্রজন্মের, পেশাজীবী ও উদ্ভাবকদেরও।

এই সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েট ও তাদের পরিবারের জন্য একটি গৌরবময় মুহূর্ত। পাশাপাশি একটি নতুন ও বৃহত্তর দায়িত্বেও সংকেত। যেখানে জ্ঞানকে প্রজ্ঞার সাথে প্রয়োগ করতে হবে, দক্ষতাকে নৈতিকতার আলোকে পরিচালিত হতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। গত এক দশকে উচ্চশিক্ষা একটি বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। যা বিপুলসংখ্যক যুবককে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষা গ্রহণ করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষমতা দান করছে। বিশ্ববিদ্যালয় একটি কেন্দ্রের মতই সেবা দান করে যেখানে জ্ঞানের সৃষ্টি এবং প্রয়োগ হয়।

তিনি আরও বলেন, একটি সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েটদের ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টা, নির্ঘুম রাত আর অবিচল অঙ্গীকারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার গৌরবময় উদযাপন।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বান করি যে, যোগ্য, সৎ ও নৈতিকতা-সচেতন নাগরিক উপহার দেয়ার মিশন ও ভিশনে আইআইইউসি এখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রয়েছে। জাতীয় অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

একটি প্রাগ্রসর আলোকিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে গুণগত শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। ব্যয় নির্বাহযোগ্য উচ্চমানের শিক্ষা যুব সমাজের ক্ষমতায়ন করে, অসাম্য কমায় এবং জাতিকে শক্তিশালী করে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীত ও কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একের পর এক বিভিন্ন বাস মাইক্রো ও কারে করে নবীন-প্রবীন শিক্ষার্থীদের মিলন মেলায় পরিনত হয়।

প্রতিবছর একদিকে নবীন শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অন্যদিকে কারো কারো বাজে বিদায়ের ঘণ্টা। ফুরিয়ে যায় ক্যাম্পাস জীবনের দিনগুলো। এরপরই আসে গ্রাজুয়েটদের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত।

সমাবর্তন হলো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়। যে অধ্যায়ের সাক্ষী হতে সবাই অপেক্ষায় থাকে। তাই সমাবর্তনকে বলা হয় শিক্ষার্থীদের লালিত স্বপ্ন। সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী হওয়াতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিলো বাঁধভাঙা আনন্দ।

সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নাকিব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইআইইউসি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী।

বক্তব্য রাখেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য আ. ন. ম. শামসুল ইসলাম। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান।

ধন্যবাদ জ্ঞাপক বক্তব্য রাখেন আইআইইউসি’র ট্রেজারার এবং সমাবর্তনের কো-কনভেনার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।