back to top

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথার স্মারক ‘স্মৃতি অম্লান’ পরিদর্শনে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬ ১৪:৪১

চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবস্থিত ‘স্মৃতি অম্লান’ জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি।

গতকাল বুধবার (১০ জুন) বিকেলে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনসমূহ গভীর আগ্রহের সঙ্গে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বহস্তে লিখিত জেড ফোর্সের অপারেশনাল অর্ডার।

পাশাপাশি ১৯৭১ সালের ২৩ ও ২৪ মার্চ ব্যবহৃত ঐতিহাসিক ১৯৬৭ মডেলের টয়োটা ক্রাউন গাড়িটিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন।

স্বাধীনতার জন্য পরিচালিত সশস্ত্র সংগ্রামের দুর্বার সাহস, অদম্য দেশপ্রেম এবং আত্মোৎসর্গের অনন্য সাক্ষ্য বহনকারী এসব নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে তিনি গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির স্বাধীন সত্তা, আত্মমর্যাদা ও অদম্য মনোবলের এক অবিনাশী মহাকাব্য।”

এ সময় তিনি জাদুঘরে সংরক্ষিত চট্টগ্রাম অঞ্চলে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল ও নিদর্শনও পরিদর্শন করেন।

একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযানিক কার্যক্রম এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ইতিহাস, অর্জন ও সাফল্যের নানা তথ্যচিত্র ও উপস্থাপনা ঘুরে দেখেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অতুলনীয় আত্মত্যাগ, বীরত্ব ও দেশপ্রেমের ইতিহাস এবং পার্বত্য চট্টগ্রামসহ চট্টগ্রাম এরিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান ও সাফল্যের নিদর্শনসমূহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।

এ লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সম্যকভাবে অবহিত করা জাতির দায়িত্ব।

এ জন্য মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান নিদর্শনসমূহের যথাযথ সংরক্ষণ, তথ্যভিত্তিক উপস্থাপন এবং গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ‘স্মৃতি অম্লান’ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং চট্টগ্রাম সেনানিবাসের গৌরবদীপ্ত ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘর কমপ্লেক্সটি সম্প্রতি সংস্কার ও পরিমার্জনের মাধ্যমে নতুনভাবে সাজানো হয়।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এটি নতুন ভবনে পুনঃস্থাপন করা হয়, যেখানে মুক্তিযুদ্ধ, সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক অবদান এবং জাতীয় গৌরবের নানা স্মারক সংরক্ষিত রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি