back to top

একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন মারা গেছেন

প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:১১

বিনোদন ডেস্ক : স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন আর নেই।

গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

ডালিয়া নওশীনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার খালাতো বোন গুণী সঙ্গীতশিল্পী সাদিয়া আফরীন মল্লিক।

ডালিয়া নওশীনের মৃত্যুতে সঙ্গীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ইয়াসমিন মুশতারি, ফারহিন খান জয়িতাসহ অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে প্রয়াত শিল্পীকে স্মরণ করেছেন।

সাদিয়া আফরীন জানান, সঙ্গীত অন্তপ্রাণ মানুষ ছিলেন ডালিয়া আপা। ৭০ পার করলেও তিনি সুযোগ পেলেই মঞ্চ ও টেলিভিশনে গাইতেন। নিয়মিত কণ্ঠের চর্চা করতেন।

ক্যান্সারজয়ী এই শিল্পী জীবনের শেষ কয়েকটা বছর লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। কিছুদিন ভালো, আবার খারাপ হয়ে পড়ত শরীর।

অবশেষে জীবনযুদ্ধে পরাজয় বরণ করে আজ অজস্র ভক্ত-শ্রোতা ও আপনজনদের কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন তিনি।

ডালিয়া নওশীন ১৯৫৫ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মাজহারুল ইসলাম ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথিতযশা স্থপতি যার কাছ থেকে তিনি সঙ্গীতের অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

ডালিয়া মাত্র পাঁচ বছর বয়সে কিংবদন্তি শিল্পী সুধীন দাশের কাছে উত্তর ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীত ও নজরুল সঙ্গীতে দীক্ষা নেন।

১৯৭৩ সালে ছায়ানট থেকে সঙ্গীতের উপর পাঁচ বছর মেয়াদী শিক্ষা গ্রহণ করেন। ভারতের বিখ্যাত গুরুদের কাছেও সঙ্গীতের শিক্ষা লাভ করেছিলেন ডালিয়া।

ডালিয়া নওশিন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে গঠিত ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’য় যোগদান করে কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেন।

তাদের দল প্রথমে ‘রূপান্তরের গান’ নামক গীতিনাট্যে গাইলেও পরে এই গীতিনাট্যের নাম পরিবর্তন করে ‘মুক্তির গান’ নাম দেওয়া হয়।

নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে সঙ্গীত পরিবেশন করার পর তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগদান করেন।

তিনি ভারতের বর্ধমানে অবস্থিত অন্তর সংগীত মহাবিদ্যালয় এবং চন্ডীগরের প্রাচীন কলা কেন্দ্র থেকে উত্তর ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীত ও নজরুল সঙ্গীতে ‘সঙ্গীত বিশারদ’ উপাধি লাভ করেন।

২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি