back to top

প্রবর্তক মোড়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা শিগগিরই জলাবদ্ধতামুক্ত হবে

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৪১

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রবর্তক মোড়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা শিগগিরই জলাবদ্ধতামুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

আজ নগরের প্রবর্তক মোড় এলাকায় হিজড়া খাল সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় দ্রুত সময়ের মধ্যে খালের কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন মেয়র।

মেয়র বলেন, “এ বছর বর্ষা মৌসুমে নগরীর সামগ্রিক জলাবদ্ধতা অনেকটা কমলেও কিছু এলাকায় পানি জমেছিল।

আমি নিজে পানিতে নেমে নালা পরিষ্কার করেছি এবং সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করেছি। তখনই বুঝেছি, সাময়িক নয়—স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”

তিনি জানান, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের অধীনে ৩৬টি খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে হিজড়া খালের খনন, সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ চলছে।

খালটি গোল পাহাড়–মেহেদীবাগ এলাকা থেকে শুরু হয়ে কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, দামপাড়া, বাকলিয়া, চকবাজার ও কাপাসগোলা হয়ে ফুলতলী–চাক্তাই খালে গিয়ে মিলিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে খালটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছিল। মেয়র বলেন, “খালটির প্রকৃত প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট হলেও দখলের কারণে অনেক জায়গায় তা ১২ থেকে ১৫ ফুটে নেমে এসেছে।

আরএস, পিএস ও বিএস ম্যাপ অনুযায়ী খালকে তার মূল প্রস্থে ফিরিয়ে আনতেই এই সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এজন্য কিছু স্থাপনা আংশিক অপসারণ করতে হবে, যা বৃহত্তর জনস্বার্থে জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “খাল খননের সময় কিছু স্থানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় সাময়িকভাবে পানি জমে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। আগামী দুই মাস কিছুটা কষ্ট হলেও পরবর্তীতে এই এলাকা স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত হবে।”

মেয়র জানান, হিজড়া খাল ও জামালখান খাল—এই দুটি খাল নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জামালখান খালের সংস্কার কাজও একযোগে চলছে এবং তা দ্রুত শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

মশার উপদ্রব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারভাবে চলবে। কোনো এলাকায় ওষুধ ছিটানো না হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সচিব বা সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মেয়র আরও জানান, নগরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ শহরে রূপান্তরের লক্ষ্যে ১,৬০০ কিলোমিটার ড্রেন উন্নয়ন, আধুনিক সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) স্থাপন, দখলমুক্ত ফুটপাত এবং পুনর্বাসনমূলক অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

খাল সংস্কারের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতায় নগরবাসীকে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি