সিটিজি নিউজ টুডে : প্রতিদিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের অলিগলি চষে বেড়াতেন তারা। লক্ষ্য একটাই-অচেনা যাত্রী। সুযোগ বুঝে যাত্রীকে ফাঁদে ফেলে মুহূর্তেই সর্বস্ব লুটে নেওয়া।
চক্রটির কৌশল ছিল ভিন্নধর্মী। ‘শয়তানের নিশ্বাস’ নামে পরিচিত এক ধরনের চেতনানাশক ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে প্রায় অচেতন বা সম্মোহিত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া।
সম্প্রতি এমনই একটি চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চকবাজার থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম বেলাল উদ্দিন (৪৫)। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে হালিশহর থানার রঙ্গীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়, যা সাম্প্রতিক এক ছিনতাইয়ের অংশ বলে ধারণা করছে পুলিশ।
চকবাজার থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে ওয়াসা মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই চক্রটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাই করে। ওই ঘটনায় বাঁধন সরকার (২৭) নামের এক ব্যক্তি তাদের টার্গেটে পরিণত হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বেলাল উদ্দিন, মো. কবির মুন্সী (৩২) এবং অজ্ঞাত আরেক সহযোগী সিএনজি অটোরিকশায় করে এসে বাঁধন সরকারকে লক্ষ্য করে।
একপর্যায়ে তার নাকের সামনে দেওয়া হয় ‘শয়তানের নিশ্বাস’—যা মূলত স্কোপোলামিন নামের একটি শক্তিশালী চেতনানাশক পদার্থ।
এই রাসায়নিকের প্রভাবে ভুক্তভোগী সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত, দুর্বল বা প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় চক্রটি।
পরিকল্পিত চক্র, চলছে অভিযান
ঘটনার পর মামলা দায়ের হলে পুলিশ তদন্তে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় বেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। তবে এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যরা এখনও পলাতক।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিসহ একটি চক্র চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে এ ধরনের অপরাধ করে।
তারা বিভিন্ন চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে অচেতন বা সম্মোহিত অবস্থায় নিয়ে যায়, তারপর সর্বস্ব লুট করে।
তিনি আরও বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চিকিৎসা থেকে অপরাধ :
স্কোপোলামিন মূলত ধুতরা গাছের উপাদান থেকে তৈরি একটি সিনথেটিক ড্রাগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর সীমিত ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে মোশন সিকনেস (যাত্রাজনিত বমিভাব) এবং কিছু অপারেশন-পরবর্তী চিকিৎসায়।
তবে অপব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। তরল বা পাউডার। দুই রূপেই পাওয়া যায় এই পদার্থ। অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে খুব দ্রুত ভুক্তভোগীর স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে, ফলে ব্যক্তি নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অচেনা ব্যক্তি বা যানবাহনে ওঠার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত সরে আসাই এ ধরনের অপরাধ এড়ানোর প্রধান উপায়।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


