সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট তৈরির নেশা যে কখনও কখনও কতটা ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তার আরেকটি করুণ উদাহরণ হয়ে রইল ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে ঘটে যাওয়া একটি সড়ক দুর্ঘটনা।
গত ১২ এপ্রিল ভোরে এনএইচ-৯ (NH-9) হাইওয়ের ওয়েভ সিটি থানা এলাকার মিসলগড়ি আন্ডারপাসের কাছে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা।
মাত্র ১৯ বছর বয়সী লেডি বাইকার ইকরা প্রাণ হারান একটি স্পোর্টস মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় ইকরা একটি ইয়ামাহা R-15 মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তার পেছনে ছিলেন বন্ধু হাশিম। দুজনের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না—যা দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী পুলিশ জানায়, ভোর ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় ইকরা ও হাশিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা ইকরাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাশিম বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—দুর্ঘটনার আগে তারা মোটরসাইকেলে রিল ভিডিও ধারণ করছিলেন। হাশিমের ফোন থেকে পাওয়া ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা রেকর্ড করছিলেন। সেই সময় বাইকের গতি ছিল অত্যন্ত বেশি এবং নিয়ন্ত্রণ ছিল অস্থিতিশীল।
পুলিশ আরও জানায়, তারা পরিবারের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আগের দিন সকালে। দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছায় পরিবারে, যা তাদের জন্য এক ভয়াবহ ধাক্কা হয়ে আসে।
হাশিমের বাবা জানান, ছেলে একটি মেয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। ফোনে কথা হলে ছেলে জানায়, তারা ঘুরতে গেছে এবং শিগগিরই ফিরবে। কিন্তু সেই ‘শিগগিরই’ আর কখনও বাস্তবে ফিরে আসেনি।
ওয়েভ সিটি পুলিশের এসিপি জানান, ঘটনাটি ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে ঘটে এবং পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, যদিও তদন্ত চলমান রয়েছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে—সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট তৈরির চাপ, দ্রুতগতির বাইকিং এবং সড়ক নিরাপত্তা উপেক্ষা করার প্রবণতা কি তরুণদের জীবনের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে?
একটি ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও, একটি মুহূর্তের উত্তেজনা—সবকিছুর শেষ পরিণতি হয়ে রইল একটি তরুণ জীবনের অবসান।



