back to top

ক্রেতা সেজে গয়নার দোকানে ঢুকে দুঃসাহসিক চুরির চেষ্টা, শেষমেশ ধরা সালমা

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬ ১০:৩৪

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দিনের ব্যস্ত দুপুরে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সাধারণ এক ক্রেতা সেজে গয়নার দোকানে প্রবেশ করা এক নারী মুহূর্তেই রূপ নিলেন দুঃসাহসিক চোরে।

পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত—কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। কর্মচারীদের প্রতিরোধ আর স্থানীয়দের তৎপরতায় হাতেনাতে ধরা পড়লেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে পৌর সদরের বিবির হাট এলাকার নিউ টুনটু জুয়েলার্সে ঢোকেন বোরকা পরিহিত এক নারী। পরে তার পরিচয় জানা যায়—সালমা আকতার।

প্রথমে তিনি একেবারেই সাধারণ ক্রেতার মতো আচরণ করেন। সোনার হার, চুড়ি দেখতে চান। দোকানের কর্মচারীরাও সন্দেহ না করে শোকেস খুলে একের পর এক গয়না বের করে দেখাতে থাকেন।

এই স্বাভাবিক পরিবেশই ছিল তার পরিকল্পনার অংশ। একপর্যায়ে হঠাৎ করেই বদলে যায় পরিস্থিতি।

বোরকার পকেটে হাত ঢুকিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তিন কর্মচারীর চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন সালমা।

আকস্মিক এই আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েন কর্মচারীরা। চোখে তীব্র জ্বালা আর ঝাঁজে তারা প্রায় অন্ধ হয়ে যান।

ঠিক সেই সুযোগেই চুড়ি, কানের দুল ও হারসহ প্রায় সাড়ে তিন ভরি সোনার গয়না কেড়ে নেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।দুঃসাহসিক

কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ তার পক্ষে যায়নি। চোখে দেখতে না পেলেও একজন কর্মচারী কৌশলে তার দুই হাত চেপে ধরেন। অন্যরাও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তাকে আটকে ফেলেন।

দোকানের ভেতরে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। বারবার ধাক্কা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেও বের হতে পারেননি সালমা। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

দোকানের মালিক সুমন ধর জানান, প্রায় সাড়ে তিন ভরি সোনার গয়না লুটের চেষ্টা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটেছে। তবে কর্মচারীদের সাহসিকতায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।”

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম খান জানিয়েছেন, আগের দিন সোমবারও উপজেলার আরেকটি জুয়েলারির দোকানে চুরির অভিযোগ রয়েছে সালমার বিরুদ্ধে।

অর্থাৎ এটি ছিল একক কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়, বরং একই কৌশলে ধারাবাহিকভাবে অপরাধ করার প্রচেষ্টা।

জানা গেছে, সালমা আকতার ফটিকছড়ির ধর্মপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে হাটহাজারী উপজেলা সদরের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।

তাকে থানাহাজতে রাখা হয়েছে। মামলার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনাটি নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে গয়নার দোকানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। দিনের আলোয়, ভিড়ের মধ্যে এমন কৌশলী আক্রমণ—যেখানে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মরিচের গুঁড়া—তা যে কোনো সময় বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ফটিকছড়ির এই ঘটনা তাই কেবল একটি ব্যর্থ চুরির গল্প নয়; বরং এটি দেখিয়ে দিল, অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে—আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে বিপদ যে আরও বড় হতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি