চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় হামের উপসর্গে পাঁচ মাস ১৫ দিন বয়সী শিশু মিশকাতের মৃত্যু পরিবার ছাড়াও পুরো সমাজের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক নীরব সংকেত হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (চমেক)–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কয়েক দিনের জ্বর, কাশি ও সর্দি—শুরুটা ছিল সাধারণ উপসর্গের মতোই। কিন্তু সেই উপসর্গই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল একটি নবজাতক জীবনের সব সম্ভাবনা।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে মিশকাতকে নেওয়া হয় বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু সেখানে আইসিইউ বেড না থাকায় শুরু হয় এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টার মরিয়া দৌড়ঝাঁপ। যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার একটি পরিচিত কিন্তু বেদনাদায়ক চিত্র।
শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে আবারও চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা গেলেও আর শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দুপুরে নিভে যায় ছোট্ট মিশকাতের জীবনপ্রদীপ।
শিশুটির বাবা মোহাম্মদ মাজেদুল হকের বিলাপ যেন এই মৃত্যুকে আরও ভারী করে তোলে। তিনি বলেন,
“একবারও বাবা ডাক শুনতে পারলাম না। বাবা বলার আগেই চুপ হয়ে গেছে মিশকাত।”
একটি বাক্য, কিন্তু তাতে যেন জমাট বেঁধে আছে অসীম বেদনা, অপূর্ণতা আর হারানোর হাহাকার।
মিশকাতের মামা রিপনের ভাষ্য আরও করুণ। আছরের নামাজের পর বাবার কোলে করে শিশুটিকে শেষবারের মতো বাড়িতে আনা হয় চরণদ্বীপ এলাকায়। পরে স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন পরিবারের শোক, অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে আসে গভীর বিষাদের ছায়া।
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও এর জটিলতা যে কত ভয়াবহ হতে পারে, মিশকাতের মৃত্যু তার নির্মম উদাহরণ হয়ে রইল।
একটি পরিবারের স্বপ্নের মৃত্যু, আর আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার একটি মর্মন্তুদ প্রতিফলন।
পারিবারিক ট্র্যাজেডি থেকে সংশ্লিষ্টদের মনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ কতটা কার্যকর ছিল?
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



