নিবন্ধন ছাড়া অবৈধ সারের মজুদ: বাকলিয়ায় ধরা খেল দুই প্রতিষ্ঠান

৬ লাখ টাকা জরিমানার সঙ্গে ৬ মাসের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪১

চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র বাকলিয়া থানার চাকতাই এলাকায় নিবন্ধন ছাড়াই অবৈধভাবে সার মজুত ও বিক্রির দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

এ সময় অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীকে প্রদান করা হয়েছে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।

অভিযান সূত্র জানায়, সার সংরক্ষণ ও বিপণনের কোনো প্রকার বৈধ নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল ‘ফারাহ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। অপরাধের সত্যতা মেলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফারুককে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ সময় ফারাহ এন্টারপ্রাইজের ছয়টি আলাদা গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার বস্তা টিএসপি (TSP) এবং ৫০০ বস্তা ডিএপি (DAP) সার জব্দ করা হয়।

একই অভিযানে সমপরিমাণ অপরাধে অভিযুক্ত ‘শাহ আলম সওদাগর এন্টারপ্রাইজ’ নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের দুটি গোডাউন থেকে জব্দ করা হয় ১০০ বস্তা এমওপি (MOP) ও ৩০০ বস্তা ডিএপি (DAP) সার।

সব মিলিয়ে অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানের মোট আটটি গোডাউন থেকে ১ হাজার ৯০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত সব সার তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মহানগরের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব উল আলম এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। অভিযানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মহানগরের কৃষি কর্মকর্তা রোজিনা আক্তারসহ বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।

কৃষি খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং অনুমোদনহীন সারের বেআইনি কারবার বন্ধে জেলা প্রশাসনের এমন কঠোর ও সরাসরি পদক্ষেপ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক নজর কেড়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি