গাড়ির পাস নিয়ে তুচ্ছ তর্ক: বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে তুলকালাম, তদন্তে কমিটি

জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগ চেকারের বিরুদ্ধে!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৭

বন্দর মানেই ব্যস্ততা, জাহাজের হর্ন আর ক্রেনের গর্জন। কিন্তু সেই ব্যস্ততার আড়ালেই একটি সাধারণ ‘গাড়ির পাস’ কেন্দ্র করে নিমেষেই বদলে গেল চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডের চিত্রপট।

সামান্য বাকবিতণ্ডা রূপ নিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে, ঘুষির আঘাতে রক্তাক্ত হলেন এক জেটি সরকার, আর মুহূর্তেই থমথমে হয়ে উঠল দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ড। সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘মেসার্স টক ট্রেড’-এর জেটি সরকার মো. আতিকুর রহমান (৪৫) স্বাভাবিক কাজের অংশ হিসেবেই বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে ইয়ার্ডে যান।

কিন্তু সেখানে গাড়ির পাস নেওয়াকে কেন্দ্র করে বন্দরের নিম্নমান বহিঃসহকারী (জেআরওএ) তথা চেকার জুয়েল দে-র সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চেকার জুয়েল সোজা আতিকুর রহমানের মুখে সজোরে ঘুষি বসিয়ে দেন।

মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন আতিকুর। তার চোখের নিচে গুরুতর জখম হয়। একজন কর্মরত সিএন্ডএফ কর্মচারীর ওপর এভাবে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বন্দরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা জড়ো হতে থাকলে তৈরি হয় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি।

আহত আতিকুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে চোখের আঘাত গুরুতর হওয়ায় সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত স্থানান্তর করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক)।

ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কাজের জায়গায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এভাবে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গাড়ির পাস নিয়ে তর্কের জেরেই আতিকুরের ওপর এই হামলা চালানো হয়।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে নেমেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ কেফায়েত হামিম জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার মুহাম্মদ আনিস উদ্দিন আহাম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছে।

তবে কেবল প্রশাসনিক সমাধানই শেষ কথা নয়; প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সামান্য একটি পাস নিয়ে কেন এই সংঘাতের সূচনা এবং কার ভূমিকা কতটুকু ছিল-তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পরই তা খোলাসা হবে।

তবে এই ঘটনায় বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের নিরাপত্তা ও সহনশীলতার প্রশ্নটি আবারও নতুন করে সামনে এসেছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি