বাকলিয়ায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি: হাইড্রোলিক জগের ভেতরে ৮৬ লাখ টাকার ইয়াবা

পুলিশের জালে ধরা টেকনাফের জালাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:২৬

লোহার তৈরি একটি হাইড্রোলিক জগ-বাহ্যিকভাবে আর দশটি গাড়ির সরঞ্জাম বা যন্ত্রাংশের মতোই সাধারণ। তবে এই সাধারণ সরঞ্জামের ভেতরেই ছিল এক বিশাল মাদকের গোপন আস্তানা।

সুকৌশলে ভেতরে লুকিয়ে পরিবহন করা হচ্ছিল হাজার হাজার পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সুনির্দিষ্ট নজরদারিতে ধরা পড়েছে পুরো চালানটি।

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক যাত্রীবাহী বাস থেকে ২৮ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগ। উদ্ধার করা এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি উত্তর বিভাগের টিম-২ ও স্পেশাল টিম-২ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বাকলিয়া থানাধীন রাজাখালী এলাকায় নাহার স্কেলের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগে থেকেই খবর পায়, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসে বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে এক কারবারি চট্টগ্রাম শহরের দিকে আসছেন।

বাসটি চিহ্নিত চেকপোস্টে পৌঁছালে গতি রোধ করে তল্লাশি চালায় ডিবি পুলিশের সদস্যরা।

তল্লাশির একপর্যায়ে বাসের মালামাল রাখার বক্সে রাখা একটি লোহার হাইড্রোলিক জগের দিকে নজর যায় গোয়েন্দাদের। জগটি বিশেষ কৌশলে তৈরি করে তার ভেতরে লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ২৮ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা।

এ সময় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মো. জালাল উদ্দীন (৪৪) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া জালাল উদ্দীন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার উত্তর ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি পেশাদার মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও ঢাকার মতিঝিল ও কক্সবাজার সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এই উদ্ধার ও গ্রেফতারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মাদকের আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ রুট গুঁড়িয়ে দিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এ ধরনের আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি