চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে নিহত আইনজীবীর বাবা ও মামলার বাদী জামাল উদ্দিন আদালতে উপস্থিত হয়ে তার জবানবন্দি প্রদান করেন।
তবে জবানবন্দি শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী তাকে জেরা করার জন্য আদালতের কাছে সময়ের আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
এর আগে সকালে শুনানির শুরুতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা এই মামলার অন্যতম আসামি সম্মিলিত সনাতণী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও বহিস্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ছাড়া এই মামলায় গ্রেফতারকৃত বাকী আসামীদের আদালতে হাজির করা হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জেলহাজত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখিত প্রায় ৫০ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার জন্য সমন জারির আবেদন করেন।
২০২৪ সালের ২৫ শে নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন চিন্ময় দাসকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
এসময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কারাগারে নিয়ে যেতে বাধা প্রধান করে।
এসময় চিন্ময় অনুসারীরা আদালত চত্বরে ভাংচুর ও তান্ডব চালায়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে আদালতের অদূরে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় থাকা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করে চিন্ময়ের অনুসারীরা।
এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ এর বাবা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর ২০২৫ সালের পহেলা জুলাই চিন্ময়কে প্রধান আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
অভিযোগপত্রে আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতাকারী ও উস্কানিদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়, অন্যান্য আসামিরা তার নির্দেশ ও প্ররোচনায় সংঘবদ্ধভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটায়।


