back to top

বৃষ্টির আগে পাহাড় ছাড়তে রেলওয়ের মাইকিং, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

প্রকাশিত: ০৩ মে, ২০২৬ ১৪:০২

বর্ষা এলেই চট্টগ্রামে ফিরে আসে পাহাড়ধসের আতঙ্ক। ভারী বৃষ্টিতে প্রাণহানির শঙ্কা মাথায় রেখে এবার আগেভাগেই সতর্কতামূলক উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাইকিং করা হয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ, যারা রেলওয়ের পাহাড় সংরক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে, তারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা শুরুর আগে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনও এ কাজে যুক্ত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, উচ্ছেদের পরও এসব পাহাড়ে মানুষ আবার ফিরে আসে। ঝুঁকি জেনেও তারা বসতি গড়ে তোলে। ফলে প্রতি বর্ষাতেই নতুন করে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নগরের সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ১৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বর্তমানে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে।

এর মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে রয়েছে ৫৩১টি পরিবার। আর বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে বাস করছে আরও ৩০৪টি পরিবার।

তবে সরেজমিনের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। নগরের লালখান বাজার, মতিঝর্ণা, টাঙ্কির পাহাড়, পাহাড়তলি, কৈবল্যধাম, খুলশী, বায়েজিদ, আকবর শাহ ও জঙ্গল ছলিমপুরসহ ৩৪টি পাহাড়ে কয়েক হাজার পাকা, সেমিপাকা ও কাঁচা স্থাপনায় বসবাস করছে প্রায় এক লাখ মানুষ।

এসব পাহাড়ের বড় একটি অংশ রেলওয়ের মালিকানাধীন। তাই রেলওয়ে এবার নিজস্ব পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী–২ জিসান দত্ত বলেন, রেলওয়ের পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা বসবাস করছেন, তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবরশাহ ও সিআরবিসহ রেলওয়ের অনেক পাহাড়ের ঢালুতে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার আগেই তাঁদের সতর্ক করা হচ্ছে।

তিনি জানান, রোববার বেলা ১১টা থেকে রেলওয়ের কর্মীরা প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে গিয়ে মাইকিং করেছেন।

রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ জানিয়েছে, তাদের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে নগরের ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে।

সেখানে বসবাস করছে ৪ হাজার ৪৭৬টি পরিবার। এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় রয়েছে আরও ৪৩১টি পরিবার।

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ভয়াবহতা নতুন নয়। ২০০৭ সালে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি ৩৬ দফা সুপারিশ দিয়েছিল। এর এক দশক পর, ২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১৬৮ জন নিহত হওয়ার পর আরও ৩৫ দফা সুপারিশ করা হয়।

কিন্তু সুপারিশের বড় অংশই কাগজে-কলমে রয়ে গেছে। বর্ষার সময় সাময়িকভাবে কিছু মানুষকে সরিয়ে নেওয়া ছাড়া স্থায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকি যেমন ছিল, তেমনি রয়ে গেছে।

সবশেষ ২০২২ সালে ফয়’স লেকের ১ নম্বর ঝিলে পাহাড়ধসে একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু হয়। তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস থামেনি।

বর্ষা আবারও সামনে। এবারও কি সতর্কতার মাইকিংয়েই দায়িত্ব শেষ হবে, নাকি বাস্তবায়ন হবে বহুদিনের সুপারিশ?

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি