চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সংঘর্ষের দুই দিন পর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমদানিপণ্যবাহী দুটি জাহাজ-‘মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ ও ‘এইচআর তুরাগ’-অবশেষে জেটিতে ভিড়েছে।
আজ রোববার দুপুরে জাহাজ দুটিকে বন্দর চ্যানেলে এনে পৃথক দুটি জেটিতে বার্থিং করানো হয়। এর মধ্য দিয়ে গত দুই দিন ধরে আমদানিকারকদের মধ্যে বিরাজমান অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ অনেকটাই কেটেছে।
বন্দর সূত্র জানায়, দেশীয় এইচআর লাইনের জাহাজ ‘এইচআর তুরাগ’ দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ৪ নম্বর বার্থে নোঙর করে।
জাহাজটিতে ৫০৩টি বক্সে মোট ৭৪৯ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার রয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত জাহাজটি থেকে ২৭১ বক্স কনটেইনার খালাস করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন ডেনমার্কভিত্তিক মায়েরস্কের জাহাজ ‘এমভি মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে জিসিবি-১৩ বার্থে ভেড়ে।
জাহাজটিতে রয়েছে ১ হাজার ১৩৩টি বক্সে ১ হাজার ৮৭৮ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত এ জাহাজ থেকে ৫৭ বক্স কনটেইনার নামানো হয়েছে।
দুটি জাহাজে সব মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬২৭ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার। ফলে এসব পণ্য দ্রুত খালাসের বিষয়টি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত শুক্রবার সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর জাহাজ দুটির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় জাহাজের মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি পানির নিচের অংশেও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে কি না, সে আশঙ্কা দেখা দেয়।
দুর্ঘটনার পরপরই বন্দর পাইলটরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রাথমিকভাবে ঝুঁকি বেশি মনে হওয়ায় তাঁরা জাহাজ দুটিকে জেটিতে না এনে বহির্নোঙরেই রেখে ফিরে আসেন। এতে পণ্য খালাস নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং আমদানিকারকদের উদ্বেগ বাড়ে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় গতকাল জাহাজ দুটিকে জেটিতে আনতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। মোহনা থেকে এনসিটি পর্যন্ত সাধারণ জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজকে তিনটি করে টাগবোটের সহায়তায় এবং অতিরিক্ত টাগবোট স্ট্যান্ডবাই রেখে বন্দর চ্যানেলে আনা হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজ দুটিকে ঘণ্টায় মাত্র ৬ থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে ধীরগতিতে আনা হয়।
প্রতিটি জাহাজে নিয়োগ করা হয় দুইজন করে অভিজ্ঞ পাইলট। পুরো প্রক্রিয়াটি বন্দর ভবনের ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ভিটিএমএস) থেকে সরাসরি তদারকি করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম বলেন, বিপুল পরিমাণ আমদানিপণ্য আটকে থাকায় অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জাহাজ দুটিকে জেটিতে আনা হয়েছে।
তবে আপাতত জাহাজ দুটি শুধু আমদানিপণ্য খালাস করতে পারবে। মেরামত সম্পন্ন না হওয়া এবং সমুদ্রপথে চলাচলের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো রপ্তানি কনটেইনার এসব জাহাজে তোলা যাবে না।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রাথমিক তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হলেও দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পণ্য খালাস শেষ হলে জাহাজ দুটিকে ডকইয়ার্ডে নিয়ে প্রয়োজনীয় মেরামত করা হবে। এরপর কারিগরি পরীক্ষা ও অনুমোদন সাপেক্ষে সেগুলো পুনরায় সমুদ্রপথে চলাচল করতে পারবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



