পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে অস্বাভাবিক এক নীরব রদবদল শুরু হয়েছে। এমন আভাসই মিলছে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সাবেক কমিশনার ও বর্তমানে পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি সালেহ মোহাম্মদ তানভীরকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো আরও একটি বড় তালিকা।
একই প্রজ্ঞাপনে আরও ১৬ জন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ‘জনস্বার্থে’ অবসরে পাঠানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার কথা উল্লেখ করা হলেও—কেন এই সিদ্ধান্ত, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকাটি শুধু দীর্ঘই নয়, তাৎপর্যপূর্ণও। এতে রয়েছেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ইউনিটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।
তালিকায় আছেন—এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ, সিআইডির ডিআইজি হাবিবুর রহমান, এনএসআইয়ের পরিচালক হারুন-অর-রশীদ, পুলিশ স্টাফ কলেজের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান।
এছাড়া অবসরে গেছেন—পিটিসি নোয়াখালীর কমান্ড্যান্ট হায়দার আলী খান, পিটিসি খুলনার কমান্ড্যান্ট মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি রুহুল আমিন, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি রফিকুল হাসান গনি, নৌ-পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মজিদ আলী।
একই তালিকায় আরও রয়েছেন—পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন, রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি গোলাম রউফ খান, পিটিসি রংপুরের কমান্ড্যান্ট রেজাউল হায়দার, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি রওশন আরা সুলতানা খানম,
এবং রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদা) ফারহাত আহমেদ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন এবং আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—একসঙ্গে এত সংখ্যক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কী ছিল?
এর আগে গত ২২ এপ্রিলও ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার আরও ১৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
অর্থাৎ, অল্প সময়ের ব্যবধানে ৩০ জনের বেশি শীর্ষ কর্মকর্তা প্রশাসন থেকে বিদায় নিলেন।
পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে নীরব উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ‘পুনর্গঠন’ বলছেন, আবার কেউ দেখছেন ‘নিয়ন্ত্রণ পুনর্বিন্যাসের’ প্রচেষ্টা হিসেবে।
সরকারি ভাষায় এটি ‘জনস্বার্থে’ নেওয়া সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাস্তবতায় এটি প্রশাসনের শক্তির ভারসাম্য বদলের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এই ধারাবাহিক অবসর প্রক্রিয়া কোথায় গিয়ে থামবে, আর এর প্রভাব কী হবে—সেই প্রশ্ন এখন পুলিশ বাহিনীর ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



