back to top

সন্ধ্যার আকাশে ‘অচেনা আলো’র ছায়া, শঙ্কা ও বিস্ময়ে উপকূল

প্রকাশিত: ০৮ মে, ২০২৬ ১৭:১৯

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে কক্সবাজারের ইনানী ও লাবণী পয়েন্ট—দূর সমুদ্রের বুক ঘেঁষে থাকা উপকূলীয় আকাশে শুক্রবার সন্ধ্যার পরপরই যেন এক অদ্ভুত দৃশ্য।

আকাশজুড়ে হঠাৎই দেখা যায় তীব্র উজ্জ্বল আলোর সরল রেখা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আলো ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায়—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, পটুয়াখালী থেকে শুরু করে বাগেরহাট পর্যন্ত।

সন্ধ্যার পরপরই আকাশে দেখা দেওয়া এই আলোর ঝলকানি ঘিরে মুহূর্তেই কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে।

অনেকেই প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে মনে করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ধারণা বদলে যায়। কারণ, আলোটি ছিল অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ, স্পষ্ট এবং চলমান রেখার মতো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভিডিও ও ছবি। সেখানে দেখা যায়, আকাশের গা চিরে এক উজ্জ্বল রেখা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে মোবাইলে ধারণ করে পোস্ট করেন বিস্ময় আর প্রশ্ন নিয়ে।

নুসরাত সুলতানা নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সন্ধ্যার পরপরই আকাশে আজ এটা কী ছিল? কেউ বলতে পারবেন?”

অন্যদিকে সমির মল্লিক লিখেছেন, “মহাজাগতিক কিছু? কয়েক মিনিট আগে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার আকাশে এটা দেখা গেছে। ধূমকেতুর সাদৃশ্য মনে হলো।”

শুধু সাধারণ মানুষই নয়, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা লাইটার জাহাজের শ্রমিকরাও এই আলো দেখতে পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

সমুদ্রের বুক থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে অনেকেই প্রথমে এটিকে জাহাজ বা বিমান-সম্পর্কিত কোনো আলো ভেবেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণাও ধোঁয়াশায় পরিণত হয়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, দেশের একাধিক উপকূলীয় ও পার্বত্য এলাকায় একই সময়ে একই ধরনের আলোর রেখা দেখা গেছে।

এত বড় ভৌগোলিক বিস্তৃতি জুড়ে একসঙ্গে এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া—কৌতূহল, বিস্ময়, আবার কিছুটা শঙ্কাও।

তবে রাত পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা বা জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

ফলে আকাশে দেখা দেওয়া এই আলোর উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, এটি কোনো মহাজাগতিক ঘটনা হতে পারে—ধূমকেতু, উল্কা বা উপগ্রহ-সম্পর্কিত কিছু।

আবার অনেকে বলছেন, এটি হয়তো প্রযুক্তিগত কোনো ঘটনার প্রতিফলন, যা আকাশে এমন রেখার মতো দেখা দিয়েছে।

তবে ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন, শুক্রবার সন্ধ্যার সেই কয়েক মিনিট দক্ষিণ উপকূলের মানুষের মনে এক অদ্ভুত ছাপ রেখে গেছে—যেখানে বিস্ময় আর অজানার ভয় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি