back to top

‘রেয়ার’ কিন্তু ভয়ংকর-চট্টগ্রামে নতুন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি জাপানিজ এনসেফালাইটিস!

গবেষণার আগেই শিক্ষিকার মৃত্যুতে নতুন আতঙ্ক

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬ ১৪:৪৭

চট্টগ্রামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকার আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিরল ও বিপজ্জনক ভাইরাস জাপানিজ এনসেফালাইটিস।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, মশাবাহিত এই ভাইরাসেই আক্রান্ত হয়েছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি।

এই মৃত্যুর ঘটনায় নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অদৃশ্য আতঙ্ক। যেখানে শত্রু দৃশ্যমান নয়, কিন্তু আঘাত সরাসরি মস্তিষ্কে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মাহাবুবুল আলম খন্দকার বলেন, এই ভাইরাস মূলত কিউলেক্স প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়।

জলচর পাখি ও বুনো প্রাণী, বিশেষ করে শূকর। এই ভাইরাসের বাহক। সেখান থেকে মশা সংক্রমিত হয়, আর সেই মশার কামড়ে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

সংক্রমণের ধরন ভয়ংকর। প্রথমে জ্বর, তারপর মাথাব্যথা, খিঁচুনি, আর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রোগী চলে যেতে পারে কোমায়।

“জ্বরের সঙ্গে যদি খিঁচুনি বা তীব্র মাথাব্যথা থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। দ্রুত হাসপাতালে আনতে পারলে আমরা কিছু করতে পারি,”-বলছিলেন ডা. মাহাবুবুল আলম খন্দকার।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে:
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ৭৫ জন রোগীর ওপর গবেষণা চালায়।

এর মধ্যে ১৮ জনের শরীরে এনসেফালাইটিস ভাইরাস শনাক্ত হয়। তবে গত আড়াই থেকে তিন বছরে মাত্র তিনজন রোগীর ক্ষেত্রে জাপানিজ এনসেফালাইটিস সন্দেহ করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আসিফুল হক বলেন, “হাজার হাজার ভাইরাসের মধ্যে এটি একটি ভ্যারিয়েন্ট।

সেই হিসেবে রোগটি খুবই অপ্রচলিত। তবে যদি শিক্ষিকার মৃত্যু এই ভাইরাসে হয়ে থাকে, তাহলে এটিই হবে চট্টগ্রামে প্রথম নিশ্চিত মৃত্যু।”

চ্যালেঞ্জ কোথায়?
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ-এই ভাইরাস শনাক্তে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে চিকিৎসকদের সামনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বলেন, “এটি যেহেতু মশাবাহিত এবং অত্যন্ত বিরল একটি রোগ, চট্টগ্রামে যদি হয়ে থাকে, তাহলে এটি প্রথম ঘটনা হতে পারে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা করছি,”—বলেছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতে, জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে পড়লে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

সংখ্যায় কম হলেও ঝুঁকিতে বড়—জাপানিজ এনসেফালাইটিস যেন সেই অদৃশ্য বিপদ, যা সময়মতো শনাক্ত না হলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে নতুন করে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি