back to top

ট্রেনের হর্ন শুনতে পাননি নুরু নাহার, রেললাইনে ঘটল মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৩ জুন, ২০২৬ ১০:৪১

স্বজনের বাড়ি থেকে আম নিয়ে ফেরার পথে রেললাইন পার হতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন নুরু নাহার বেগম (৬০) নামে এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারী।

বুধবার (৩ জুন) সকাল আনুমানিক ৬টা ২৫ মিনিটে সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের উত্তর ঢেমশা বোর্ড অফিস এলাকায় দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের দাবি, ট্রেনের হর্ন বাজানো হলেও শ্রবণপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি তা শুনতে পারেননি।

নিহত নুরু নাহার বেগম সাতকানিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ছিটুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং নজির আহমদের স্ত্রী।

তিনি ঢেমশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সেলিম উদ্দিনের শাশুড়ি ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরু নাহার বেগম উত্তর ঢেমশা এলাকায় তার এক নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে আম আনতে গিয়েছিলেন।

বুধবার সকালে সেখান থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় ঢাকা থেকে মঙ্গলবার রাত ১১টায় ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তার সঙ্গে ধাক্কা লাগে।

ট্রেনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

স্থানীয় বাসিন্দা আবছার উদ্দিন জানান, ট্রেনটি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় একাধিকবার হর্ন বাজিয়েছিল।

তবে নুরু নাহার বেগম শ্রবণপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি ট্রেনের হর্ন শুনতে পারেননি। ফলে রেললাইন পারাপারের সময় দুর্ঘটনার শিকার হন।

দুর্ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার রেলওয়ে থানার এসআই রফিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল রেললাইন পারাপারে অধিক সতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি